তারেক রহমানকে কটূক্তি: বাক-স্বাধীনতার প্রশ্নে নজিরবিহীন উদারতা বিএনপির, মুক্তির দাবি
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সহনশীলতা এবং বাক-স্বাধীনতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কটূক্তি করার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে খোদ বিএনপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী 'নতুন বাংলাদেশে' গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এটি একটি অনন্য উদাহরণ।
গত ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, শনিবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই দাবি জানানো হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় শনিবার যখন তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদি এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মাজার জিয়ারত করতে যান। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিএনপি সূত্র জানায়, জিয়ারত চলাকালীন শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি দূর থেকে তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও গালাগালি করতে থাকেন। বিষয়টি তারেক রহমানের দৃষ্টিগোচর না হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি জানার পর তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে ওই ব্যক্তিকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। বিএনপির বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক মানবাধিকার। বিএনপি মনে করে, কেবল ভিন্নমত বা কটূক্তির কারণে কাউকে গ্রেফতার করা গণতান্ত্রিক রীতির পরিপন্থী।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভিন্নমত দমনের সংস্কৃতি এ ভূখণ্ডে দীর্ঘদিনের। ১৯৫০-এর দশকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার যখন বাঙালির ভাষা ও মত প্রকাশের ওপর আঘাত হানে, তখন থেকেই রাজপথ উত্তাল হয়। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৬-র ৬ দফা এবং ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল মূলত শোষণের বিরুদ্ধে ও বাক-স্বাধীনতার পক্ষে লড়াই।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সংস্কৃতি তৈরি হলেও ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই সংস্কৃতি ভাঙার ডাক দেয়। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর সেই অধিকার আদায়ের লড়াই আর ২০২৫-এর বর্তমান প্রেক্ষাপট যেখানে একবিন্দুতে মিলেছে, তা হলো—নাগরিকের নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার। বিএনপি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে যে, তারা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে আসছে এবং সেই সংগ্রামের প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই তারা শহিদুল ইসলামের মুক্তি চায়।
বিগত দশকগুলোতে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীনদের নিয়ে সামান্য সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার কারণেও অনেককে কারাবরণ করতে হয়েছে। কিন্তু ২০২৫ সালের এই ঘটনায় চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। খোদ যার বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হয়েছে, সেই দলের পক্ষ থেকেই অভিযুক্তের মুক্তি চাওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এক নতুন বার্তা দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, ১৯৫০-এর সেই গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ২০২৫ সালে এসে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার পথে। বিএনপি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছে, "নিজের মত প্রকাশের কারণে শহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার ও কারাগারে প্রেরণ সঠিক হয়নি।"
তথ্যসূত্র: ১. বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (২৭ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. যুগান্তর ও সমসাময়িক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের আর্কাইভ। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল স্কলার ও ঐতিহাসিক রেফারেন্স)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |