| বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার লাকসামে পিতার ওপর সন্তানের নির্মম নির্যাতন: গরম পানি ঢেলে অত্যাচার

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 11-04-2025 ইং
  • 4759675 বার পঠিত
কুমিল্লার লাকসামে পিতার ওপর সন্তানের নির্মম নির্যাতন: গরম পানি ঢেলে অত্যাচার
ছবির ক্যাপশন: কুমিল্লার লাকসামে পিতার ওপর সন্তানের নির্মম নির্যাতন: গরম পানি ঢেলে অত্যাচার

কুমিল্লার লাকসামে পিতার ওপর সন্তানের নির্যাতন: গরম পানি ঢেলে অত্যাচার, ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লার লাকসামে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে ৬০ বছর বয়সী পিতা আবদুল জলিলকে তার স্ত্রী ও সন্তানরা নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে লাকসাম পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর গ্রামে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের একটি ১ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

নির্যাতনের চিত্র: গরম পানি দিয়ে অত্যাচার

ভিডিওতে দেখা যায়, আবদুল জলিলকে বাড়ির উঠানে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে তার হাত-পা বেঁধে তার মুখে গরম পানি ঢালা হচ্ছে। তিনি চিৎকার করে সাহায্য চাইছিলেন, কিন্তু তার সন্তানরা কোনো সহানুভূতি না দেখিয়ে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়রা ঘটনাটি জানাজানি হয় এবং তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আবদুল জলিলের স্ত্রী রিনা আক্তার (৪৫), ছেলে শান্ত (২৮), নোমান (২০), রকি (১৬), এবং মেয়ে নাজমিন (২৬) ও নুপুর (১৩) এই নির্যাতনে জড়িত ছিলেন। বিশেষত, প্রবাসে থাকা বড় ছেলে শান্ত দীর্ঘদিন ধরে পিতাকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন যে, তাকে তার সম্পত্তি তার নামে লিখে দিতে হবে। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং টাকা লেনদেনের সমস্যায় গত কিছুদিন ধরে জলিলের ওপর নির্যাতন চলছিল।

পিতার অভিযোগ: দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন

নির্যাতনের পর আহত অবস্থায় আবদুল জলিলকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার স্ত্রী এবং সন্তানরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে ভরণপোষণ না দিয়ে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল। বিশেষত, কিছুদিন আগে সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা এবং টাকা লেনদেনের জেরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে গরম পানি দিয়ে পুড়িয়ে নির্যাতন করা হয়, যা তার শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

পুলিশের তদন্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা জানান, “নির্যাতনের ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি। নির্যাতিত আবদুল জলিল থানায় তার সন্তানদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”

এ ঘটনার পর এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের ঘটনা যদি না থামানো হয়, তবে আরও অনেক পরিবারে এমন নির্যাতন হতে পারে। তারা দাবি করেছেন, নির্যাতনকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এটি একটি সামাজিক বার্তা: পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে একাধিক উদ্যোগ প্রয়োজন

এই ঘটনা একদিকে যেমন একটি পরিবারে ঘটে যাওয়া শোক ও দুঃখের বিষয়, অন্যদিকে এটি পারিবারিক সহিংসতার বিষয়েও একটি বড় বার্তা দেয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় পারিবারিক সহিংসতা, বিশেষ করে পিতা-মাতার ওপর সন্তানের নির্যাতন, একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য এক কলঙ্কস্বরূপ এবং পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা প্রতিফলিত করে।

এছাড়া, সমাজে এমন ঘটনার প্রতিকার ও প্রতিরোধে সরকারের আরও সচেতনতা তৈরি করা উচিত। পরিবারগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন সামাজিক শিক্ষার পাশাপাশি আইনগত কার্যক্রম। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বোঝাপড়া ও সহানুভূতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমে আসবে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency