প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন উত্তাল সময়। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ক্রিকেটীয় সম্পর্ক এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা দিতে ভারতের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলা হলে তবেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএল থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংকটের সূত্রপাত। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) দাবি করেছে, তারা মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই তাকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন ওঠে—যদি একজন তারকা ক্রিকেটারকে নিরাপত্তা দিতে ভারত ব্যর্থ হয়, তবে পুরো একটি জাতীয় দল এবং বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কয়েক হাজার দর্শক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন আজ সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, "একজন ক্রিকেটারকে যেখানে ভারত নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে পুরো টিমের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হব? আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে চাই, তবে তা ভারতের বাইরে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হতে হবে।" উল্লেখ্য যে, বিসিবি ইতোমধ্যেই তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘ এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহু চড়াই-উতরাই পাড়ি দিয়েছে। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪৭-এর দেশভাগ—এই অঞ্চলের রাজনীতি ও জনজীবন সবসময়ই সীমান্ত রেখা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।
১৯৭১-১৯৯০: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকা দুই দেশের মধ্যে 'রক্তের বন্ধন' তৈরি করেছিল। তবে পরবর্তী কয়েক দশকে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি (১৯৯৬) এবং সীমান্ত হত্যাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সম্পর্কের টানাপোড়েনও কম ছিল না।
ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বিবর্তন: ২০০০ সালে ভারতের বিপক্ষেই বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল। গত আড়াই দশকে দুই দেশের ক্রিকেটীয় লড়াই বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।
২০২৫-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা বিরাজ করছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে ভারতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠানের বিষয়টি রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে এখন জটিল আকার ধারণ করেছে। হিন্দুত্ববাদী বিভিন্ন সংগঠনের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর জন্য বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছিল যে, আইসিসি বাংলাদেশের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে আজ ৭ জানুয়ারি দুপুরে বিসিবি এক বিবৃতিতে এই খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিসিবি জানিয়েছে, আইসিসি তাদের আবেদনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
বিগত ১০০ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় খেলাধুলা কখনোই রাজনীতির বাইরে ছিল না। অতীতে ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার যে নজির রয়েছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ সেই একই মডেল অনুসরণ করতে চায়। শেষ পর্যন্ত যদি আইসিসি ভারতের ভেন্যু পরিবর্তন না করে, তবে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।
সূত্র: ১. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রেস ব্রিফিং (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিক বিবৃতি। ৩. আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) নিরাপত্তা পর্যালোচনা প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |