লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]
ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক রাজনীতি
সময়: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ৩:১৫
ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা। এমন পরিস্থিতিতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আলবুসাইদির সঙ্গে জরুরি ফোনালাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহের-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ওমান ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করে আসছে। ফোনালাপে আরাগচি জোর দিয়ে বলেন যে, আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সব প্রতিবেশী দেশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ’ শান্তি প্রক্রিয়ার প্রধান অন্তরায়। ইরান চায় বাইরের কোনো উসকানি ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক।
ওমান সরকার জানিয়েছে, এর আগেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে এবং একটি বড় ধরণের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত কারণে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবুসাইদি আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে।
পাকিস্তানের দেওয়া দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তাবের পর ওমানের এই সক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। তার আগেই ওমান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে।
বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ ছিল পারমাণবিক ইস্যু এবং ট্রাম্পের অনড় অবস্থান। ওমানের সাথে ইরানের এই যোগাযোগ মূলত একটি ‘ব্যাক-চ্যানেল’ ডিপ্লোম্যাসি, যা হয়তো কোনো বড় ধরণের সংঘাত এড়াতে শেষ মুহূর্তের কোনো চমক নিয়ে আসতে পারে। তবে ট্রাম্পের ‘নৌ অবরোধ’ কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়েছে।
| পক্ষ | মূল বার্তা / অবস্থান |
| ইরান (আরাগচি) | আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণ ও আমেরিকার হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি। |
| ওমান (আলবুসাইদি) | দ্রুত শান্তি ফেরার প্রত্যাশা এবং মধ্যস্থতার সদিচ্ছা। |
| বর্তমান সংকট | ২২ এপ্রিলের ডেডলাইনের আগে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ। |
ওমানের মধ্যস্থতায় এর আগেও অনেক বড় বড় সংকটের সমাধান হয়েছে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন— একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবরোধ আর অন্যদিকে ইরানের ‘অপ্রকাশিত সক্ষমতা’র হুমকি। ওমান কি পারবে এই দুই বিপরীত মেরুকে আবারও এক করতে? বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।
আপনার মতামত: আপনি কি মনে করেন ওমান ও পাকিস্তানের এই যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি পারবে ২২ এপ্রিলের পর যুদ্ধ বন্ধ রাখতে? কমেন্টে আপনার বিশ্লেষণ জানান।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |