| বঙ্গাব্দ

চুক্তি থেকে ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল ইরান-আমেরিকা | আরাগচির আফসোস।

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 13-04-2026 ইং
  • 152656 বার পঠিত
চুক্তি থেকে ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল ইরান-আমেরিকা | আরাগচির আফসোস।
ছবির ক্যাপশন: ইরান-আমেরিকা

কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল শান্তি চুক্তি: ইসলামাবাদের ব্যর্থ আলোচনা নিয়ে আরাগচির আফসোস

লিখেছেন: [BDS Bulbul Ahmed]

ক্যাটাগরি: আন্তর্জাতিক রাজনীতি

সময়: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | দুপুর ১:১৫

ইসলামাবাদে গত শনিবার ও রবিবার (১১-১২ এপ্রিল) টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ইরান-আমেরিকা আলোচনা কেন ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, দুই পক্ষ একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছানো থেকে মাত্র ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরে ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে যায়।

১. চুক্তির দ্বারপ্রান্ত থেকে কেন ফিরল যুক্তরাষ্ট্র?

আব্বাস আরাগচি জানান, ইরান এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে শতভাগ সদিচ্ছা নিয়েই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এসেছিল। কিন্তু যখনই একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান বদলে ফেলে। আরাগচির মতে, মার্কিন প্রতিনিধি দলের হঠাত করে লক্ষ্য পরিবর্তন এবং নতুন করে অবরোধের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি ভেস্তে যায়।

২. জেডি ভ্যান্সের সেই ২১ ঘণ্টা ও ‘খারাপ খবর’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেছেন যে, তারা টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারাকে তিনি ‘খারাপ খবর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যদিও আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই আলোচনা থেকে পিছু হটার নেপথ্যে ছিল বাইরের কোনো প্রভাব (বিশেষ করে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ফোন কল)।

৩. ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি

এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সুর আরও কড়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে তার সরকারের ‘কিছু যায় আসে না’। ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান এবং নেতানিয়াহুর লেবানন অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২২ এপ্রিলের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।


ঘটনাপ্রবাহের এক নজরে আপডেট (১৩ এপ্রিল ২০২৬):

  • আরাগচির দাবি: চুক্তি থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিল দুই দেশ।

  • যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: জেডি ভ্যান্সের মতে ২১ ঘণ্টার আলোচনা ফলপ্রসূ হলেও অমীমাংসিত।

  • ট্রাম্পের হুঙ্কার: ইরান আলোচনায় না ফিরলেও আমেরিকার কিছু যায় আসে না।

  • বিশ্বকাপ বিতর্ক: মার্কিন মাটিতেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে হবে ইরানকে (ফিফা সংক্রান্ত চাপ)।

  • ধর্মীয় সংঘাত: ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে পড়েছেন পোপ লিও।


বিডিএস পর্যবেক্ষণ: ইসলামাবাদের এই ব্যর্থতা কেবল দুটি দেশের পরাজয় নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় ধাক্কা। তেলের বাজারের অস্থিরতা আর যুদ্ধের মেঘ—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর এই এপ্রিল মাসটি ইতিহাসের পাতায় এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকতে পারে।


উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে?

২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। আরাগচির এই ‘কয়েক ইঞ্চি’ দূরত্বের আফসোস কি আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে দুই পক্ষকে? নাকি ট্রাম্পের জেদ আর নেতানিয়াহুর সামরিক পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক মহাপ্রলয়ের দিকে নিয়ে যাবে? বিশ্ব এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায়।

আপনার মতামত: আপনার কি মনে হয় শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছিয়ে যাওয়া কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ? কমেন্টে আপনার মতামত জানান।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency