ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ (সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট ও জিও-পলিটিক্যাল এনালিস্ট)
ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬: চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উরুমকিতে আজ এক নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যুদ্ধ চলছে। একদিকে পাকিস্তানের কড়া অবস্থান, অন্যদিকে তালেবান সরকারের নমনীয় হওয়ার চেষ্টা। মাঝখানে চীন খেলছে ‘শান্তি দূতে’র ভূমিকা। ইসলামাবাদ স্পষ্ট করে দিয়েছে—আফগান সরকারকে টিটিপি-কে (TTP) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে, তাদের অবকাঠামো ধ্বংস করতে হবে এবং তার প্রমাণ দিতে হবে।
উরুমকিতে বেইজিং যেভাবে দুই পক্ষকে এক টেবিলে বসানোর চেষ্টা করছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি-র প্রেক্ষাপটকে।
ঐতিহাসিক তুলনা: বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলে যেমন দীর্ঘদিনের অস্থিরতা মেটাতে সংলাপের প্রয়োজন ছিল, পাকিস্তানও আজ ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ (Ghazab-lil-Haq)-এর পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখছে। তবে পার্থক্য হলো—এখানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে রয়েছে চীন, যাদের নিজস্ব স্বার্থ (শিনজিয়াংয়ের নিরাপত্তা) এই আলোচনার প্রধান চালিকাশক্তি।
টিটিপি-কে সন্ত্রাসী ঘোষণা করা এবং তাদের ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি মূলত একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার ‘রেড লাইন’।
ব্যক্তিত্বের তুলনা: এই কঠোর অবস্থান আমাদের মনে করিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক উক্তি— "আমাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।" পাকিস্তান আজ আফগানিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে কাবুলের আন্তরিকতাই হবে সম্পর্কের একমাত্র ভিত্তি। এটি অনেকটা ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তির (ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ) মতো, যেখানে অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
চীনের বিশেষ দূত ইউয়ে শিয়াওইয়ং গত কয়েক মাস ধরে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে যে দৌড়ঝাঁপ করছেন, তাকে বলা হচ্ছে ‘শাটল ডিপ্লোম্যাসি’।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: আমেরিকা যখন মধ্যপ্রাচ্যে বিমান হামলায় ব্যস্ত (যেমনটি আমরা ট্রাম্পের আলটিমেটামে দেখছি), চীন তখন এশিয়ার অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে নিজের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI)-এর সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। শিনজিয়াংয়ের উরুমকিকে বৈঠকের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া বেইজিংয়ের একটি মাস্টারস্ট্রোক, যা সরাসরি পূর্ব তুর্কিস্তান ইসলামিক মুভমেন্টকে সতর্ক করার নামান্তর।
হরমুজ প্রণালি সংকটের কারণে যখন বিশ্ব তেলের বাজার ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, তখন আফগানিস্তানের মধ্য দিয়ে মধ্য এশিয়ায় ‘নিরাপদ বাণিজ্য রুট’ চালু করার প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
অর্থনৈতিক প্রভাব: পাকিস্তান যদি এই আলোচনার মাধ্যমে সন্ত্রাসমুক্ত সীমান্ত নিশ্চিত করতে পারে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ায় জ্বালানি পরিবহনের বিকল্প পথ খুলে দিতে পারে। এটি বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হতে পারে, যারা বর্তমানে তেলের দামে দিশেহারা।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: উরুমকি বৈঠক সফল হওয়া কেবল পাকিস্তান বা আফগানিস্তানের জন্য নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। তবে বড় প্রশ্ন হলো—তালেবান কি পাকিস্তানের এই ‘তিন শর্ত’ মেনে নিয়ে নিজেদের একসময়ের মিত্র টিটিপি-কে শত্রু হিসেবে ঘোষণা করবে? যদি তারা এটি করে, তবে তা হবে তালেবান কূটনীতির এক বড় পরিবর্তন। আর যদি ব্যর্থ হয়, তবে ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে।
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ ও শর্ত |
| পাকিস্তানের শর্ত ১ | টিটিপি-কে (TTP) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা। |
| পাকিস্তানের শর্ত ২ | আফগানিস্তানে টিটিপি-র অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস। |
| পাকিস্তানের শর্ত ৩ | গৃহীত পদক্ষেপের যাচাইযোগ্য প্রমাণ (Verification)। |
| চীনের ভূমিকা | পাঁচ দফা কাঠামো ও শাটল কূটনীতি। |
| বৈঠকের স্থান | উরুমকি, শিনজিয়াং (কৌশলগত কারণে তাৎপর্যপূর্ণ)। |
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |