বিশেষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ সিনিয়র ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজিস্ট
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৬: কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার ‘নারীবিদ্বেষী’ ও ‘বডি শেমিং’ মন্তব্যের জেরে এবার খোদ জোটসঙ্গীদের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা আমির হামজাকে কেবল ‘নারীবিদ্বেষী’ হিসেবেই আখ্যা দেননি, বরং তাঁকে তাঁর নিজের দল জামায়াতে ইসলামীর জন্য ‘দুঃখ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে এনসিপি’র যুগ্ম সদস্যসচিব তাহসিন রিয়াজ তাঁর ফেসবুক ওয়ালে এক চাঞ্চল্যকর পোস্ট দেন। তিনি লেখেন:
“চীনের দুঃখ হোয়াংহো, আর জামায়াতের দুঃখ হামজা (আমির হামজা পড়ুন)।”
এই একটি বাক্যেই তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, আমির হামজার অশালীন বক্তব্য জোটের ভাবমূর্তিকে কতটা সংকটে ফেলেছে। ঐতিহাসিক প্রবাদকে ব্যবহার করে দেওয়া এই স্ট্যাটাসটি রাজনৈতিক মহলে এখন ‘টক অব দ্য টাউন’।
বাংলাদেশের জোট রাজনীতির ইতিহাসে শরিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ নতুন কিছু নয়।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জোট: ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর জামায়াত ও বিএনপির জোটের মধ্যেও অনেক সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক আচরণের কারণে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল।
২০২৬-এর প্রেক্ষাপট: বর্তমানের এনসিপি-জামায়াত জোটের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এনসিপি’র তরুণ ও প্রগতিশীল নেত্রীরা (যেমন নুসরাত তাবাসসুম ও মনিরা শারমিন) আমির হামজার ‘মিসোজিনিস্ট’ বা নারীবিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন। এটি প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের রাজনীতিতে আদর্শিক প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়ার মানসিকতা নেই নতুন প্রজন্মের নেতাদের।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন আমির হামজার কড়া সমালোচনা করে বলেন, “আমির হামজার মতো মিসোজিনিস্ট লোক কীভাবে জনপ্রতিনিধি হয় আমি বুঝি না। কতটা নীচ মানসিকতার হলে নারী-পুরুষ সাংসদদের জড়িয়ে বডি শেমিং করে।” তিনি জামায়াতের কাছে আমির হামজার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। এর আগে এনসিপি’র আরেক প্রভাবশালী নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমও একই ইস্যুতে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
বিডিএস অ্যানালাইসিস: আমির হামজার ‘ভুঁড়ি’ ও ‘ব্রিজ-কালভার্ট’ থিওরি মূলত তাঁর ওয়াজ মাহফিলের সস্তা হাসির খোরাক হতে পারে, কিন্তু একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক জোটে এটি ‘পলিটিক্যাল সুইসাইড’-এর শামিল। এনসিপি’র মতো তরুণ নেতৃত্বাধীন দল যখন জামায়াতের একজন এমপিকে ‘দুঃখ’ বলছে, তখন বুঝতে হবে জোটের অভ্যন্তরীণ রসায়ন এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
| ব্যক্তিত্ব | অবস্থান/মন্তব্য | রাজনৈতিক প্রভাব |
| তাহসিন রিয়াজ (এনসিপি) | আমির হামজা জামায়াতের জন্য ‘দুঃখ’। | জোটের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকাশ। |
| মনিরা শারমিন (এনসিপি) | আমির হামজা একজন ‘মিসোজিনিস্ট’ (নারীবিদ্বেষী)। | নারী ভোটের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব। |
| নুসরাত তাবাসসুম (এনসিপি) | তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনা। | তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ। |
| ছাত্রদল (রাজেন্দ্র কলেজ) | বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। | বিরোধী শিবিরেও আমির হামজা ইস্যু অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার। |
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন শিক্ষাক্রম, সংবিধান সংস্কার এবং সংসদীয় শিষ্টাচারের যে দাবি উঠেছে, আমির হামজার বক্তব্য তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এনসিপি নেতা তাহসিন রিয়াজের স্ট্যাটাসটি ইঙ্গিত দেয় যে, আগামী নির্বাচনে বা ক্ষমতার ভারসাম্যে আমির হামজার মতো ‘বিতর্কিত’ ব্যক্তিদের নিয়ে জামায়াতকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।
চীনের হোয়াংহো নদী যেমন বারবার বন্যায় দুঃখের কারণ হতো, তাহসিন রিয়াজের মতে আমির হামজাও তাঁর দলের জন্য তেমনি এক সংকটের নাম। এই বিতর্কের পর জামায়াতে ইসলামী তাঁদের এমপির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় নাকি জোটসঙ্গীদের ক্ষোভকে উপেক্ষা করে—তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |