আন্তর্জাতিক ডেস্ক (বিডিএস ডিজিটাল) তারিখ: ১৬ মার্চ, ২০২৬
ইরান-ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ১৭তম দিনে এসে এক নতুন সংকটের মুখোমুখি হয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। চার স্তরের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Iron Dome, David's Sling, Arrow-2/3) দিয়ে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকিয়ে দিলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ এখন ইসরাইলিদের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ ২০২৬) প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের খণ্ডাংশ পড়ে মধ্য ইসরাইলে নতুন করে আরও একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আকাশেই ধ্বংস হওয়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোগুলো একেকটি রকেটের মতো কাজ করছে। তেল আবিবের নিকটবর্তী শোহাম, রিশন লেজিয়ন, লোদ এবং নেস জিওনা শহরে এই ধ্বংসাবশেষগুলো আছড়ে পড়ে। এতে অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোয় আহত ব্যক্তিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক ব্যক্তিসহ মোট ৩ হাজার ৩৬৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই ১৪২ জন নতুন করে ভর্তি হয়েছেন। সরকার এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
| বিষয় | পরিসংখ্যান/তথ্য |
| আক্রান্ত এলাকা | তেল আবিব, শোহাম, লোদ ও রিশন লেজিয়ন। |
| মোট আহত (ইসরাইল) | ৩,৩৬৯ জন (২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে)। |
| বিগত ২৪ ঘণ্টায় আহত | ১৪২ জন। |
| নিশ্চিত মৃত্যু | ১০ জন (বেসরকারি মতে আরও বেশি)। |
| আকাশ প্রতিরক্ষা | অধিকাংশ মিসাইল প্রতিহত হলেও ধ্বংসাবশেষে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। |
বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আন্তর্জাতিক এনালাইসিস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এই সংঘাত প্রমাণ করছে যে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ১০০ শতাংশ কার্যকর নয়। বিশেষ করে ইরানের 'হাইপারসনিক' ও 'স্যাচুরেশন অ্যাটাক' (একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও মিসাইল ছড়া) পদ্ধতি ইসরাইলের দামী ইন্টারসেপ্টরগুলোকে দিশেহারা করে দিচ্ছে। ১৯০০ সালের প্রথাগত যুদ্ধ থেকে ২০২৪-এর ডিজিটাল বিপ্লব পরবর্তী এই সময়ে ‘অসম যুদ্ধ’ এখন ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তিতে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরাসরি লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ যে পরিমাণ আতঙ্ক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি করছে, তা ইসরাইলি সমাজ ও অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধস নামিয়েছে। মাঠ পর্যায়ের এনালাইসিসে দেখা গেছে, ইসরাইলি নাগরিকরা এখন বাঙ্কারে থাকতে অভ্যস্ত হয়ে পড়লেও প্রতিহত করা মিসাইলের টুকরো থেকে বাঁচার কোনো কার্যকর উপায় তারা পাচ্ছে না।
বিডিএস ডিজিটাল ডেস্ক-এর মন্তব্য: চার স্তরের প্রতিরক্ষা থাকার পরও হাজার হাজার মানুষ আহত হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি না ঘটলে ইসরাইলের জন্য সামনে আরও বড় মানবিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।
সূত্র: ১. আল-জাজিরা ও এ নিউজ (A News)।
২. ইসরাইলি চ্যানেল-১২ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুলেটিন।
৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক এনালাইসিস।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |