গাজীপুরের উন্নয়নে প্রশাসকের ১৮০ দিনের মহাপরিকল্পনা ও নতুন দিগন্ত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
গাজীপুর: বাংলার ভূ-প্রকৃতি ও শিল্পায়নের ইতিহাসে গাজীপুর এক অনন্য নাম। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি মোড়ে গাজীপুর ছিল অকুতোভয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের অধীনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন শওকত হোসেন সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি নগরবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে ১৮০ দিনের (৬ মাস) এক সাহসী ও সুদূরপ্রসারী মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০০ পরবর্তী) গাজীপুর ছিল মূলত বনভূমি ও কৃষিপ্রধান এলাকা। ভাওয়াল রাজাদের শাসনামল থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের শিল্পনগরী হয়ে ওঠার গল্পটি বেশ দীর্ঘ। ১৯ শতকের গোড়ায় ভাওয়াল পরগণার প্রশাসনিক গুরুত্ব যেমন ছিল, বর্তমান ২০২৬ সালের স্মার্ট বাংলাদেশে গাজীপুরের গুরুত্ব তার চেয়ে বহুগুণ বেশি। ২০১৩ সালে গঠিত হওয়া এই সিটি করপোরেশন নানা রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের অধীনে এসেছে। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের এই নতুন সাজের গাজীপুর মূলত ১৯ শতকের সেই ঐতিহ্য আর আধুনিক নগরায়নের এক মেলবন্ধন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল নয়টায় নগর ভবনে পৌঁছে শওকত হোসেন সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি গাছের চারা রোপণ করে তাঁর কার্যদিবস শুরু করেন। পরে স্থানীয় সরকার সচিবের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তাঁর ঐতিহাসিক কর্মপরিকল্পনা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার গাজীপুরবাসীকে দুটি বড় সংকটের সমাধান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: ১. ফ্লাইওভার ও সেতু নির্মাণ: আগামী ৬ মাসের মধ্যে জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া সাভার ও আশুলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করতে কাশিমপুর এলাকায় দুটি বড় সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন তিনি। ২. খাল খনন ও মশা নিয়ন্ত্রণ: নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯টি খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি মশার উপদ্রব থেকেও নগরবাসী মুক্তি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী গাজীপুরকে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন, ডিশ লাইন অপসারণ এবং আধুনিক সড়ক বাতি স্থাপনের অঙ্গীকার করেছেন প্রশাসক।
গাজীপুরের সামাজিক পরিবেশ রক্ষায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেছেন তিনি। তরুণদের বিপথগামী হওয়া থেকে বাঁচাতে ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ এবং একটি শিশু পার্ক নির্মাণের ঘোষণা গাজীপুরবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
সিটি করপোরেশনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার করে শওকত হোসেন সরকার বলেন, "জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়তে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না।" এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-১ আসনের এমপি মজিবুর রহমান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান এবং মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ পদস্থ কর্মকর্তারা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সালের দীর্ঘ পথচলায় গাজীপুর অনেক প্রশাসক ও মেয়র দেখেছে। তবে বর্তমান প্রশাসকের এই সুনির্দিষ্ট ১৮০ দিনের পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে গাজীপুর কেবল একটি শিল্পনগরী নয়, বরং একটি বাসযোগ্য আধুনিক মহানগরীতে পরিণত হবে। ১৯ শতকের ঐতিহাসিক ভাওয়াল পরগণা আজ ২০২৬ সালে এসে শওকত হোসেন সরকারের নেতৃত্বে এক নতুন প্রশাসনিক সংস্কারের স্বপ্ন দেখছে।
সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশন আর্কাইভ এবং গুগল নিউজ বাংলাদেশ (২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |