প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন ভোরের সূচনা হয়েছে। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী ঐতিহ্যের পথ বেয়ে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। তবে কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে যে পরিবর্তন তিনি নিয়ে এসেছেন, তা দেশবাসীকে মনে করিয়ে দিচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই চিরচেনা "সাদামাটা ও সৎ জীবনযাপনের" কথা। ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’—এই প্রবাদকে সত্য প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রীর শুরুর দিনগুলোই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশ এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে যাত্রা শুরু করেছে।
বাঙালির রাজনৈতিক বিবর্তনে ১৯০০ সালের পর থেকে বহু নেতা এসেছেন, কিন্তু শহীদ জিয়ার মতো "মাটির মানুষ" হিসেবে কেউ এতটা গভীরে দাগ কাটতে পারেননি। প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখনিতে উঠে এসেছে, কীভাবে দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েও জিয়াউর রহমান তার সন্তানদের জন্য ছেঁড়া কাপড় রিপু করে পোশাক তৈরি করে দিতেন। ১৯৮১ সালের ১২ জুনের ‘দৈনিক বাংলা’ কিংবা ২০১২ সালে এবিএম মূসার সাক্ষাৎকারে জিয়াউর রহমানের সেই সাধারণ খাবার ও জীবনযাপনের গল্প আজও কিংবদন্তি। ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের মাঝে বাবার সেই প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথাগত "ভিভিআইপি কালচার" ভেঙে দিয়ে যে নজির স্থাপন করেছেন, তা আধুনিক গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ। তার উল্লেখযোগ্য কিছু সিদ্ধান্ত:
ব্যক্তিগত গাড়ী ও জ্বালানি: প্রধানমন্ত্রী তার চলাচলের জন্য সরকারি গাড়ীর পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ী, নিজস্ব চালক এবং নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করছেন।
গাড়িবহর ও প্রটোকল হ্রাস: বহরে ১৩-১৪টি গাড়ীর পরিবর্তে মাত্র ৪টি গাড়ী রাখা এবং পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার প্রথা বাতিল করা হয়েছে।
ট্রাফিক সিগন্যালে অপেক্ষা: ১৮ ফেব্রুয়ারি শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে ফেরার পথে সাধারণ গাড়ীর মতোই সিগন্যালে আটকে থেকে পথচারীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।
শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট বর্জন: বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য শুল্কমুক্ত গাড়ী বা সরকারি প্লট সুবিধা নেবেন না—এই ঘোষণা রাজনীতিতে স্বচ্ছতার এক নতুন মাইলফলক।
প্রশাসনে গতি আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এখন থেকে শনিবারও নিয়মিত অফিস করবেন তিনি। ১৯ ফেব্রুয়ারি রোজার প্রথম দিনে সকাল সোয়া ৯টার আগেই তিনি সচিবালয়ে উপস্থিত হওয়ায় পুরো প্রশাসনে এক ধরনের ইতিবাচক কম্পন অনুভূত হয়। অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জ্যাম ঠেলে অফিসে ছুটতে দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিনের আলস্যের সংস্কৃতিকে ভেঙে দিয়েছে। নামাজের বিরতিতে সবার সাথে নামাজ আদায় করা এবং মিতব্যয়িতার আহ্বান জনমনে আস্থার সঞ্চার করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের মতে, শহীদ জিয়া যেমন ‘১৯ দফা কর্মসূচি’ ও ‘খল খনন’ কর্মসূচির মাধ্যমে উৎপাদনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তারেক রহমানও তেমনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে সুশাসন ও উৎপাদনমুখী রাষ্ট্র গড়ার পথে হাঁটছেন। তার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রথম ভাষণ এবং ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণের প্রতিশ্রুতি প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল পদমর্যাদা নয়, বরং সেবাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।
সূত্র: ১. মাহফুজ উল্লাহ রচিত ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া : রাজনৈতিক জীবনী’। ২. ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ৩. বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক (দৈনিক বাংলা, যুগান্তর, প্রথম আলো) ও সংবাদ সংস্থার আর্কাইভ। ৪. ১৯০০-২০২৬: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিবর্তন দলিল।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে তারেক রহমানের এই "সাদামাটা জীবনযাপন" কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা। ১৯০০ সালের সেই নির্লোভ নেতৃত্বের আদর্শ যদি ২০২৬ সালের এই আধুনিক বাংলাদেশে স্থায়িত্ব পায়, তবেই ২০২৪-এর বিপ্লবের মূল চেতনা সফল হবে। জনগণের সাথে মিশে চলা এবং ক্ষমতার বাহুল্য ত্যাগ করার এই পথই হতে পারে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশের চাবিকাঠি।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |