প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক বাণীতে মহাসচিব এই শুভেচ্ছা জানান।
বাঙালির রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের মেলবন্ধন অত্যন্ত সুদীর্ঘ। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে ব্রিটিশ শাসনামলেও এই ভূখণ্ডের মুসলমানরা কঠিন প্রতিকূলতার মাঝেও ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতেন। ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিক অস্থিরতা কিংবা ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও রমজান মাস বাঙালির মনে ধৈর্য ও লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল।
বিংশ শতাব্দীর ১৯০০ সাল থেকে আজ ২০২৬ সালের এই নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যন্ত বাংলাদেশে রমজান কেবল একটি ধর্মীয় মাস হিসেবে নয়, বরং সাম্য ও সহমর্মিতার মাস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৬ সালের এই প্রথম রমজানে দেশজুড়ে এক নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর এবারের রমজানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বাণীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "রমজানের প্রধান ইবাদত সিয়াম বা রোজা রাখা। পবিত্র এ মাসে একজন রোজাদার মহান রাব্বুল আল-আমিনের নিকট করুণা ভিক্ষা করলে সন্তুষ্টচিত্তে তিনি বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। এগারো মাস অপেক্ষা এ মাস অধিক মর্যাদাশীল ও বরকতপূর্ণ।"
তিনি পবিত্র কোরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ তাই এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ তার গুণাহসমূহ দূরীভূত করে আত্মিক ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতা লাভ করতে পারে। রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো পাপ থেকে বিরত থাকা এবং ঈমান ও তাকওয়া অর্জন করা।
বিএনপি মহাসচিব তার বাণীতে সমাজ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, "সংযমের মধ্য দিয়ে হিংসা-প্রতিহিংসা, অপরের অমঙ্গল কামনা, অশ্লীলতা আর পঙ্কিলতার আবর্ত থেকে মুক্ত হয়ে সমাজ জীবনে শান্তি, স্বস্তি ও ইনসাফ ফিরে আসুক—এটাই হোক আমাদের প্রার্থনা।" তিনি রমজান মাসে সকলের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে ‘আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে তার বাণী শেষ করেন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি (১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: ব্রিটিশ ভারত ও তৎকালীন বাংলার মুসলিম সমাজ ও সংস্কৃতি (১৯০০-১৯৪৭)। ৩. সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষণ প্রতিবেদন ২০২৬।
বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের এই পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বাণী অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিশেষ করে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা ২০২৪-এর বিপ্লব-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। ১৯০০ সালের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে ২০২৬ সালে একটি স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব এই বাণীতে ফুটে উঠেছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |