রংপুরে লাঙ্গলের দুর্গে জামায়াতের হানা: ১৯০০-২০২৬ বাংলাদেশের রাজনীতির এক ঐতিহাসিক পটপরিবর্তন
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
রংপুর ডেস্ক: উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘ তিন দশকের ‘জাতীয় পার্টির দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত রংপুরে এক মহাকাব্যিক পরিবর্তন ঘটেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনেই বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। যুগান্তকারী এই ফলাফলে কেবল আঞ্চলিক রাজনীতি নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির মানচিত্রেও এক বিশাল পরিবর্তন সূচিত হয়েছে।
রংপুরের এই নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। জামায়াত ও তাদের জোটভুক্ত প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| সংসদীয় আসন | বিজয়ী প্রার্থী (দল/জোট) | প্রাপ্ত ভোট | নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (দল) | ব্যবধান |
| রংপুর-১ | মো. রায়হান সিরাজী (জামায়াত) | ১,৫০,০৮৮ | মোকাররম হোসেন (বিএনপি) | ৮০,৬৮১ |
| রংপুর-২ | এটিএম আজহারুল ইসলাম (জামায়াত) | ১,৩৪,১৮৭ | মোহাম্মদ আলী (বিএনপি) | ৫৪,৩২৫ |
| রংপুর-৩ | মাহবুবুর রহমান বেলাল (জামায়াত) | ১,৭৫,৫৭৮ | বিএনপি প্রার্থী | ৯১,০০০ |
| রংপুর-৪ | আখতার হোসেন শাপলা (জাতীয় নাগরিক পার্টি) | ১,৪৭,৯৪৭ | বিএনপি প্রার্থী | ৮,৩৩১ |
| রংপুর-৫ | অধ্যাপক গোলাম রব্বানী (জামায়াত) | ১,৭৪,১০০ | বিএনপি প্রার্থী | ৫৯,৮৮৬ |
| রংপুর-৬ | অধ্যাপক নুরুল আমিন (জামায়াত) | ১,১৮,৮৯০ | সাইফুল ইসলাম (বিএনপি) | ১,৯৭১ |
রংপুরের এই নির্বাচনে মোট ২৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০২ জন ভোটারের রায় প্রতিফলিত হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা তৃতীয় অবস্থানে চলে আসায় এই অঞ্চলের রাজনীতিতে ‘লাঙ্গল’ যুগের অবসান দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের রাজনীতি ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান সংস্কার কাল পর্যন্ত এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে মুসলিম লীগের উত্থান এই ভূখণ্ডের রাজনীতির মূল ভিত্তি গড়ে দেয়।
১৯৫২ - ১৯৭১: ৫২-র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ছিল বাঙালির স্বাধিকারের চূড়ান্ত লড়াই।
১৯৯০ - ২০২৪: নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন এবং পরবর্তী সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্রের চড়াই-উতরাই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব ‘জুলাই বিপ্লব’ ১৫ বছরের একচ্ছত্র শাসনের অবসান ঘটায়।
২০২৫ - ২০২৬: ২০২৫ সালটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের বছর। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ভোটাররা প্রথমবারের মতো গণভোট ও সরকার গঠনের নির্বাচনে একসাথে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "জামায়াত পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে যেতে চায় না। আমাদের রাজনীতি হবে ইতিবাচক, কল্যাণমুখী—মানুষের জন্য রাজনীতি, দলের জন্য নয়।"
সংবাদ সম্মেলনের মূল হাইলাইটস:
গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য: আমির বলেন, "রাজনীতি যদি দেশের মানুষের জন্য হয়, তবে পাস করার গ্যারান্টি নিয়ে নির্বাচন হয় না। মানুষ যেভাবে গ্রহণ করবে, সেটাকেই সম্মান জানাতে হবে।"
সহযোগিতার রাজনীতি: "বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং ভালো কাজে সহযোগিতা এবং অকল্যাণকর কাজে বিরোধিতা করাই হবে জামায়াতের নীতি।"
ফলাফল পর্যবেক্ষণ: কিছু আসনে ফল ঘোষণা বিলম্বিত হওয়া নিয়ে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার কথা বলেন।
গণভোট ও বিজয়: একই দিনে অনুষ্ঠিত সংস্কার সংক্রান্ত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বেশি পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিডিএস বুলবুল আহমেদ মনে করেন, রংপুরে জামায়াতের এই নিরঙ্কুশ জয় এবং আমিরের ‘ইতিবাচক রাজনীতি’র বার্তা দেশে এক নতুন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পথ দেখাচ্ছে। ১৯০০ সালের সেই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার স্বপ্ন আজ ২০২৬ সালে এসে এক আধুনিক এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশে রূপান্তরিত হওয়ার পথে। ভোটারদের এই রায় মূলত সুশাসন এবং ইনসাফের পক্ষে এক গণবিস্ফোরণ।
সূত্র: যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল আর্কাইভ, জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া উইং, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (২০২৬) এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |