দেড় দশক পর বিটিভিতে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণ: জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন অধ্যায়
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে সরকারি গণমাধ্যমের খোলস পাল্টাতে শুরু করেছে। দেড় দশক পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) পুনরায় রাজনৈতিক দলের প্রধানদের জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই শুরু হচ্ছে এই বিশেষ সম্প্রচার কার্যক্রম।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে জনমতের প্রতিফলন ঘটাতে গণমাধ্যমের ভূমিকা চিরকালই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন বঙ্গভঙ্গ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে, তখন সভা-সমাবেশ ও সংবাদপত্রের মাধ্যমেই রাজনৈতিক বার্তা জনগণের কাছে পৌঁছানো হতো। ১৯৬৪ সালে বিটিভির যাত্রা শুরুর পর থেকে এটি রাষ্ট্রীয় প্রচারের প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৭৯ ও ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের সময়ও বিটিভিতে রাজনৈতিক নেতাদের ভাষণের নজির ছিল। সর্বশেষ ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের বিটিভিতে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের আমলে এই প্রথাটি পুরোপুরি রুদ্ধ ছিল। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে পুনরায় সেই গণতান্ত্রিক প্রথা ফিরে আসাকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার’ ফসল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত চারটি রাজনৈতিক দলের প্রধান তাদের ভাষণ প্রচারের অনুরোধ জানিয়েছেন। সে অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ সূচি:
৮ ফেব্রুয়ারি (রোববার): * সন্ধ্যা ৬-৭টা: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
সন্ধ্যা ৭-৮টা: জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার): * সন্ধ্যা ৬-৭টা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সন্ধ্যা ৭-৮টা: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিটিভির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই চার দলের বাইরে অন্য কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল আবেদন করলে তাদের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। বিটিভি এখন কেবল সরকারের মুখপাত্র হিসেবে নয়, বরং জনগণের মুখপত্র হিসেবে কাজ করার নীতি গ্রহণ করেছে। এই পরিবর্তনের ফলেই দেড় দশক পর রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্রীয় এই গণমাধ্যমে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জাতির সামনে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এ অঞ্চলের মানুষের যে বাকস্বাধীনতা ও ভোটাধিকারের লড়াই, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগটি তারই একটি আধুনিক এবং ডিজিটাল প্রতিফলন। এটি কেবল একটি ভাষণ নয়, বরং সুস্থ ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতির অভিমুখে বাংলাদেশের এক বড় পদক্ষেপ।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, বিটিভি মহাপরিচালকের দপ্তর, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের আমূল পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে গত এক শতাব্দীর রাজনৈতিক ইতিহাসে গণমাধ্যমের যে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ছিল, ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে তা ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রধান দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ভাষণ সম্প্রচার নির্বাচনের ময়দানে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |