সংসদে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে চাই, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ১৯০০ সালের বঙ্গভঙ্গ পূর্ববর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের আজকের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—বাংলার প্রতিটি আন্দোলন ও নির্বাচনেই সন্ত্রাস এবং দুর্বৃত্তায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবার ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ময়দানে রণহুঙ্কার দিলেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার ঢাকার দৈনিক বাংলা মোড়ে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি চলাকালে এক পথসভায় তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, "আপনারা দোয়া করবেন যেন সংসদে গিয়ে আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারি। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলে পুরো বাংলাদেশ থেকে মাদক উচ্ছেদ করব এবং সন্ত্রাসীদের হাত-পা গুঁড়া করে আইনের আওতায় এনে জেলে আটকে রাখব।"
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নাম উল্লেখ না করে ঢাকা-৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে ইঙ্গিত করে বলেন, "এই আসনে যে মাদক সিন্ডিকেট ও মাদক সম্রাট রয়েছেন, ওনাকে আহ্বান জানাবো—আপনার কর্মীদের হাতে অস্ত্র ও মাদক তুলে দেবেন না। সেই কর্মীরাই মাদক সেবন করে একদিন আপনার ওপর আঘাত হানবে।"
তিনি ভোটারদের প্রতি ১২ ফেব্রুয়ারি মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নির্বাচনের সময় কেউ হাতে মাদক দেয়, কেউ অস্ত্র দেয়। যথেষ্ট সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়েছে, আমরা আর সহ্য করব না। আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে আমাদের নাকি মারধর করা হবে। এবার আসুন, আমরা শক্ত হাতে তা প্রতিহত করব।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তরুণদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তবে স্বাধীনতার পরবর্তী ৫৪ বছর ও আগের ২৩ বছর মিলিয়ে গত ৭৭ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পেশিশক্তি ও মাদক সিন্ডিকেটের অনুপ্রবেশ একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—একটি কলঙ্কমুক্ত ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মতো তরুণ প্রার্থীদের এই সরাসরি অবস্থান সেই সংস্কারেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সম্প্রতি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পিঠা উৎসবে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার রেশ টেনে তিনি মঙ্গলবার বলেন, "হাবিবুল্লাহ বাহারে মাইর খেয়ে আসছি, এবার মাইর দিব। কারণ বারবার মাইর খেতে পারব না, তাহলে তো মরেই যাব। এবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কিছু উত্তম-মধ্যম দিতেও কার্পণ্য করব না।"
পথসভায় এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা স্লোগান দেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে কোনো অপশক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করবেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ কিংবা ১৯৭১-এর যুদ্ধ—সর্বত্রই অশুভ শক্তির পরাজয় হয়েছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ঢাকা-৮ আসনের এই উত্তাপ প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটাররা এখন শান্তি ও নিরাপত্তার প্রত্যাশী। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন" এবং মাদক উচ্ছেদের অঙ্গীকার কতটুকু সফল হবে, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালট যুদ্ধেই নির্ধারিত হবে।
সূত্র: যুগান্তর, ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সেল এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |