হাতপাখাই ইসলামের মুক্তির বাক্স: উলিপুরের জনসভায় চরমোনাই পীর, ১৯০০-২০২৬ রাজনীতির নতুন সমীকরণ
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আদর্শিক লড়াইয়ের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের বর্তমান সময় পর্যন্ত এ দেশের মানুষ বারবার শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ এখন সরগরম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬) রাতে কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌর শহরের বিজয়মঞ্চ চত্বরে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম এক চাঞ্চল্যকর বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি ঘোষণা করেন, "আসছে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স রয়েছে, আর সেই বাক্সের নাম হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা।"
চরমোনাই পীর তার বক্তব্যে বর্তমান রাজনৈতিক জোটগুলোর সমালোচনা করে বলেন, বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বে যে জোট গঠিত হয়েছে, তাদের ইশতেহারে ইসলামের কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। তিনি আরও যোগ করেন, "জামায়াতের আমির পরিষ্কার বলেছেন—বর্তমান যে নীতি-আদর্শ ও আইন রয়েছে, সেই আইনেই তারা দেশ চালাবেন। অথচ এই আইন আমরা দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে দেখে আসছি।"
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন রেজাউল করিম। তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রচলিত আইনের অধীনেই হাজার হাজার মায়ের কোল খালি হয়েছে, বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং দেশি শাসকরা বিদেশিদের গোলামি করেছে।
উলিপুরের এই জনসভায় কুড়িগ্রাম-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক আক্কাছ আলী সরকারসহ জেলা ও উপজেলার শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে যেভাবে বাঙালি মুসলিমরা তাদের অধিকারের জন্য সোচ্চার হয়েছিল, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেও হাতপাখাকে বিজয়ী করার মাধ্যমে সেই একই চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশের রাজনীতির এই উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে:
১৯০৫-১৯৪৭: বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভাগ পর্যন্ত এই অঞ্চলে ইসলামি মূল্যবোধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংঘাত ও সমন্বয় ছিল মূল চালিকাশক্তি।
১৯৭১-২০২৪: স্বাধীনতার পর থেকে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ বারবার আইনের শাসনের জন্য লড়াই করেছে।
২০২৫-২০২৬: ২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। আর ২০২৬ সালের শুরুতে এসে রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া। চরমোনাই পীরের এই বক্তব্য ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিমের মতে, যারা দেশপ্রেমিক এবং ইসলামকে ভালোবাসেন, তাদের একমাত্র গন্তব্য এখন হাতপাখা। তিনি দাবি করেন, প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে প্রকৃত ইসলামি শাসনই কেবল দেশের মুক্তি এনে দিতে পারে।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর অবস্থান আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার কৌশলগত দূরত্বের সুযোগ নিতে চাইছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ১৯০০ সালের খিলাফত আন্দোলন বা পরবর্তী সময়ের ধর্মীয় রাজনীতির যে প্রভাব এই জনপদে ছিল, ২০২৬ সালে এসে চরমোনাই পীর সেই আবেগকেই জনসমর্থনে রূপান্তরের চেষ্টা করছেন। ৫৪ বছরের প্রচলিত আইনের ব্যর্থতাকে সামনে এনে তারা মূলত ভোটারদের সামনে একটি 'বিকল্প ব্যবস্থা'র প্রস্তাব রাখছেন।
সূত্র: * নিজস্ব প্রতিবেদক ও মাঠ পর্যায়ের সংবাদ
যুগান্তর ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬)
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস (১৯০০-২০২৬ আর্কাইভ)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |