প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টায় গাজীপুর জেলা শহরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর শৈশবের স্মৃতিচারণ করেন এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের এক নতুন রূপকল্প পেশ করেন। ময়মনসিংহে জনসভা শেষ করে তিনি রাত পৌনে বারোটায় গাজীপুরের মঞ্চে এসে পৌঁছালে জনসমুদ্র এক অভূতপূর্ব উল্লাসে ফেটে পড়ে।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে তাঁর শৈশবের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "আমি আমার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মা বেগম খালেদা জিয়া এবং ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সঙ্গে এই রাজবাড়ি ময়দানের পাশেই বসবাস করতাম। এই মাঠে আমি খেলাধুলা করেছি, ঘুরে বেড়িয়েছি। এখানকার মানুষের প্রতি আমার হৃদয়ের টান ও অধিকার রয়েছে।"
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভ পোশাক শিল্পের সূচনা করেছিলেন তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান। "আজ গাজীপুর হচ্ছে পোশাক শিল্পের রাজধানী। আমরা এই শিল্পকে আরও বিস্তৃত করব যাতে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ে এবং নারী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য আধুনিক 'ডে কেয়ার সেন্টার' চালু করা হবে," বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে বিশেষ দুটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন।
ফ্যামিলি কার্ড: দেশের নারীদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই কার্ড প্রদান করা হবে।
কৃষি কার্ড: কৃষকদের সার, বীজ ও সেচ সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দিতে এই আধুনিক কার্ড ব্যবস্থা চালু হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারই প্রথম নারীদের জন্য একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেছিলেন, যা এ দেশের নারী শিক্ষায় এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিল।
গাজীপুরের চিরচেনা যানজট নিরসনে তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় এলে সর্বপ্রথম রেলগেটে একটি আধুনিক 'উড়াল সড়ক' (Flyover) নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া তুরাগ, চিলাই ও শালদহ নদী খনন করে পানি প্রবাহ বাড়ানো এবং নদীগুলোকে শিল্পবর্জ্য ও দখলমুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।
ভোটার ও নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান এক বিশেষ কৌশলগত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "আপনারা তাহাজ্জতের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং জামাতের সাথে ফজরের নামাজ আদায় করে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনাদের আগে অন্য কেউ কেন্দ্রে ঢুকতে না পারে। ভোট শুরু হলেই ধানের শীষে সবার আগে ভোট দেবেন।"
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত এ অঞ্চলের মানুষের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল শোষণমুক্ত সমাজ। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে যে বিজয়ের সূর্য উদিত হয়েছিল, ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান সেই চেতনাকে 'বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ' ও 'উন্মুক্ত বাজার অর্থনীতি'র মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
বিশেষ করে ১৯০০ সালের গোড়ালি থেকে এ অঞ্চলের মুসলিম ও হিন্দু কৃষকদের যে বঞ্চনা ছিল, জিয়াউর রহমানের 'খাল খনন' ও 'কৃষি বিপ্লব' তা ঘোচানোর চেষ্টা করেছিল। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ২০২৬ সালের নির্বাচনকে তারেক রহমান দেখছেন সেই অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় গাজীপুরের পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। রাজবাড়ি ময়দান ছাড়িয়ে পশ্চিমে শিববাড়ি মোড়, উত্তরে শহীদ বরকত স্টেডিয়াম পর্যন্ত ছিল মানুষের ঢল। সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সাইয়েদুল আলম বাবুল, ফজলুল হক মিলনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
সূত্র: তারেক রহমানের নির্বাচনি ভাষণ (২৮ জানুয়ারি, ২০২৬), বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিবেদন এবং জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক সংস্কারের ইতিহাস (উইকিপিডিয়া ও বাংলাপিডিয়া)।
তারেক রহমানের গাজীপুরের এই জনসভা প্রমাণ করে যে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি কেবল 'ভোটের রাজনীতি' নয়, বরং 'উন্নয়নের রাজনীতি'কে প্রাধান্য দিচ্ছে। জিয়াউর রহমানের পোশাক শিল্পের ভিত্তি এবং খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানের 'ফ্যামিলি কার্ড' ও 'কৃষি কার্ড' এর প্রস্তাব সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা শোষণের রাজনীতির বিপরীতে এটি একটি গঠনমূলক পরিবর্তনের ইঙ্গিত।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |