| বঙ্গাব্দ

ডা. আব্দুল্লাহ তাহেরের ‘উগ্রবাদ’ মন্তব্য: জামায়াতের ওপর চটেছে ইসলামী আন্দোলন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 25-01-2026 ইং
  • 1467435 বার পঠিত
ডা. আব্দুল্লাহ তাহেরের ‘উগ্রবাদ’ মন্তব্য: জামায়াতের ওপর চটেছে ইসলামী আন্দোলন
ছবির ক্যাপশন: ইসলামী আন্দোলন

জামায়াত-ইসলামী আন্দোলন বাগযুদ্ধ: ডা. তাহেরের ‘উগ্রবাদ’ মন্তব্যে রাজনৈতিক তোলপাড়

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ তাহেরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন দূতাবাস ও ‘এক্সট্রিমিজম’ বিতর্ক

অভিযোগ উঠেছে, ডা. আব্দুল্লাহ তাহের সম্প্রতি আমেরিকান দূতাবাসের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভেতরে ‘এক্সট্রিমিজম’ বা চরমপন্থা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, "ডা. তাহের চাইলে সঠিক ধারণা দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি পশ্চিমা ‘ওয়ার অন টেরর’ পরিভাষা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উগ্রবাদের অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন। এটি দেশ ও জাতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ।"

সুফি-ধারা বনাম উগ্রবাদ

ইসলামী আন্দোলন দাবি করেছে, তারা এ অঞ্চলের হাজার বছরের সুফি-ধারা থেকে বিকশিত একটি আধ্যাত্মিক ও সংস্কারমূলক রাজনৈতিক শক্তি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "দলটি ইসলামের দাওয়াতি চরিত্র ধারণ করে ভালোবাসা ও যুক্তিবোধের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে রাজনীতি করি; কোনো ভ্রান্ত উগ্রপন্থাকে কখনোই সমর্থন করি না।"

১৯০০ থেকে ২০২৬: আদর্শিক সংঘাত ও পশ্চিমা প্রভাব

বাংলার ইসলামী রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় নেতৃত্ব সবসময়ই বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত থাকতে চেয়েছে। ১৯০০ সালের সেই তৃণমূল আধ্যাত্মিক চেতনার উত্তরসূরি হিসেবে ইসলামী আন্দোলন আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও পশ্চিমা ‘লেবেলিং’-এর বিরুদ্ধে সোচ্চার। অপরদিকে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আন্তর্জাতিক লবিং এবং বিদেশি দূতাবাসগুলোর সাথে তাদের যোগাযোগ অন্য দলগুলোর মধ্যে সন্দেহ ও দূরত্বের সৃষ্টি করছে।

মার্কিন দূতাবাসের ব্যাখ্যা দাবি

বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন কেবল জামায়াতের সমালোচনা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বরং এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে জড়ানোর বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দলটির পক্ষ থেকে মার্কিন দূতাবাসের কাছে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এই ধরনের কাদা ছোড়াছুড়ি ইসলামী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।


তথ্যসূত্র ও ক্রেডিট:

  • মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক সংবাদ (২৫ জানুয়ারি, ২০২৬)

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জামায়াতে ইসলামী মিডিয়া সেল

  • বিএসএস (BSS) ও আন্তর্জাতিক সংবাদ পর্যবেক্ষণ

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency