প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দাগনভূঞা, ফেনী: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বইছে ভোটের হাওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনে দেখা গেল রাজনীতির এক বিরল ও সুন্দর দৃশ্য। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে দাগনভূঞার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাজিরপোল এলাকায় নির্বাচনি প্রচারণাকালে মুখোমুখি হন দুই হেভিওয়েট প্রার্থী—বিএনপির আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং জামায়াত প্রার্থী ডা. ফখরুদ্দিন মানিক।
সাফল্য ও পরাজয়ের হিসাব ছাপিয়ে এদিন প্রধান্য পায় সৌজন্যবোধ। প্রচারণার মাঝপথে একে অপরের দেখা হতেই তারা হাসিমুখে এগিয়ে আসেন এবং কোলাকুলি করেন। আব্দুল আউয়াল মিন্টু ডা. মানিককে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চান। জবাবে ডা. মানিক তাকে ‘বড় ভাই’ সম্বোধন করে বলেন, "ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও আমরা একে অপরের ভাই।"
ফেনী অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই ফেনীর মানুষ অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে এই জনপদের মানুষের আত্মত্যাগ অবিস্মরণীয়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়: ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ফেনীর রাজপথ ছিল উত্তাল।
২০২৪-এর বিপ্লব: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশ সংস্কারের এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে।
২০২৬-এর নির্বাচন: ২০২৬ সালের এই নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে। যেখানে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং সম্প্রীতির রাজনীতির এক নতুন বার্তা দিচ্ছে ফেনী-৩ আসন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার সহোদর ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। মিন্টু বলেন, "রাজনীতিতে আদর্শিক লড়াই থাকবেই, কিন্তু ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এর উর্ধ্বে।"
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের শূরা সদস্য ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক বলেন, "মিন্টু ভাই আমার অভিভাবক তুল্য। আমরা অনেক ফোরামে একসঙ্গে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। পদ্ধতিগত কারণে আমরা ভিন্ন দলের প্রার্থী হলেও আমাদের লক্ষ্য জনসেবা। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে।"
দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর এই কোলাকুলির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে। সাধারণ ভোটার ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনাকে ‘ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। উপস্থিত প্রচারণা কর্মীরাও এই দুই সজ্জন ব্যক্তির শিষ্টাচারে বিমোহিত হন।
প্রচারণাকালে উভয় প্রার্থীই ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন। আব্দুল আউয়াল মিন্টু দাগনভূঞা ও সোনাগাজীর অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। অন্যদিকে ডা. মানিক সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে প্রার্থীরা যে শিষ্টাচার প্রদর্শন করছেন, তা সারা দেশের রাজনীতির জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯০০ সালের সংগ্রামের চেতনা থেকে ২০২৬-এর গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা—ফেনী সবসময়ই সত্য ও সুন্দরের পথে পথ দেখিয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর, স্থানীয় প্রতিনিধি রিপোর্ট এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ডায়েরি। বিশ্লেষণ: বিডিএস বুলবুল আহমেদ, বিশেষ সংবাদ ডেস্ক।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |