| বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের নির্বাচনী হুঙ্কার: ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, ১১১ বার জেল খেটেছি জনগণের জন্য’

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 23-01-2026 ইং
  • 1504955 বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলের নির্বাচনী হুঙ্কার: ‘স্বাধীনতাবিরোধীদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়, ১১১ বার জেল খেটেছি জনগণের জন্য’
ছবির ক্যাপশন: ঠাকুরগাঁওয়ে ফখরুলে

ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল: ‘স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসলে দেশ টিকবে না’

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁও: “যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, তাদেরকে যদি আপনারা সরকার হিসেবে নিয়ে আসেন, তবে এই দেশ টিকবে না। তারা এখন অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলছে, কিন্তু একবারও বলছে না যে ১৯৭১ সালে তারা ভুল করেছিল।” শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি, ২০২৬) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজারে নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভোটারদের উদ্দেশ্যে এভাবেই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংগ্রামের চিত্র ও বর্তমান বাস্তবতা

২০২৬ সালের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের নির্বাচনী এলাকায় বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন মির্জা ফখরুল। পথসভায় আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে। এগারো বার জেলে গেছি। কিন্তু আমি কোনো চুরি-ডাকাতির জন্য জেলে যাইনি, গিয়েছি আপনাদের ভোটাধিকার আর দেশের মানুষের জন্য লড়াই করতে।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের ওপর যিনি দীর্ঘ সময় অত্যাচার করেছেন, তিনি আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সবাইকে ফেলে তিনি একাই জান নিয়ে চলে গেছেন।”

১৯৭১-এর চেতনা ও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি

মির্জা ফখরুল ভোটারদের ১৯৭১ সালের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা সবাই মিলে একটি দেশের জন্য লড়াই করেছি। কিন্তু যারা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সাহায্য করেছিল, তারা এখন ক্ষমতা চায়। তারা জাষ্ঠিভাঙ্গায় হিন্দু ভাইদের গুলি করে হত্যার কথা ভুলে গেছে, কিন্তু আমরা ভুলিনি।” তিনি ঘোষণা করেন যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির দেশ গড়তে চায় যেখানে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সবাই মিলে মিশে থাকবে।

১৯০০ থেকে ২০২৬: রাজনীতির একটি ঐতিহাসিক রেখাচিত্র

বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে যে অধিকার আদায়ের লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এ দেশের মানুষকে দ্বিতীয়বার মুক্তির স্বাদ দিয়েছে। ১৯০০ সালের সেই সংগ্রামী চেতনা থেকে ২০২৬ সালের এই বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষের প্রধান দাবি ছিল ভোটাধিকার। মির্জা ফখরুল মনে করিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে রূপান্তর করতে চাইলে ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সবাইকে ভোট দিতে হবে এবং সঠিক সরকার নির্বাচন করতে হবে।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনমত

প্রচারণাকালে মির্জা ফখরুল লিফলেট বিতরণ করেন এবং ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। তিনি এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ কর্মসংস্থানের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। এসময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে ধানের শীষের প্রতি ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য ২০২৬ সালের নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং গত সরকারের দমন-পীড়নের বিষয়গুলো সামনে এনে তিনি ভোটারদের আবেগ স্পর্শ করার চেষ্টা করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনই হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার চূড়ান্ত পরীক্ষা।


সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ, বাসস এবং ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি প্রচারণা সেল।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency