| বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদের বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক: নির্বাচনের আগে ৪১ কোটি টাকার জিও নিয়ে তোলপাড়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 17-12-2025 ইং
  • 3081522 বার পঠিত
আসিফ মাহমুদের বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে বিতর্ক: নির্বাচনের আগে ৪১ কোটি টাকার জিও নিয়ে তোলপাড়
ছবির ক্যাপশন: আসিফ মাহমুদ

নির্বাচনের আগে উন্নয়নের টোপ: আসিফ মাহমুদের বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে তোলপাড়, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ‘বিশেষ বরাদ্দের’ হিড়িক পড়েছে। সদ্য পদত্যাগকারী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে পছন্দের প্রার্থীদের সুবিধা দিতে কয়েক কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের জিও (সরকারি আদেশ) জারির চাপ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই বরাদ্দগুলো মূলত নির্বাচনি মাঠে প্রভাব বিস্তারের অপকৌশল, যা নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

পছন্দের আসনে বরাদ্দের পাহাড়

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারাদেশে ৬৪ জেলা ও ৪৯৫ উপজেলা পরিষদকে টার্গেট করে মোট ৪১ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা (খুলনা-৫ আসন) এলাকাতেই ৩১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ। সমালোচকরা বলছেন, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে নগদ অর্থ বরাদ্দের এই কৌশল মূলত প্রার্থীর কর্মীদের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার একটি মাধ্যম।

এমনকি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যা বরাদ্দ হওয়ার কথা ছিল, সেই তৃতীয় ধাপের বরাদ্দের প্রস্তাবও আসিফ মাহমুদ পদত্যাগের আগে আগাম অনুমোদন করে গেছেন।

মন্ত্রণালয়ে এখনও ঘনিষ্টদের আধিপত্য

আসিফ মাহমুদ গত ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টা পদ থেকে ইস্তফা দিলেও তার পিএস এবং ঘনিষ্ঠজনেরা এখনও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে সক্রিয়। অভিযোগ উঠেছে, তারা ব্যাকডেটে (পেছনের তারিখে) জিও জারির জন্য কর্মকর্তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন। নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ঠিক রাখতে এসব বিতর্কিত জিও বাতিল এবং উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠদের অপসারণের দাবি তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: নির্বাচনী সংস্কৃতি ও বরাদ্দের রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে নির্বাচনের আগে উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে ভোটার টানার সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের।

  • ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমলের মৌলিক গণতন্ত্র (Basic Democracy) থেকে শুরু করে ৯০-এর দশক পরবর্তী প্রতিটি সরকারই নির্বাচনের আগে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, "অবাধ নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় হলো রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার।"

  • ২০২৪-২৫ এর প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর মানুষ আশা করেছিল প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরবে। কিন্তু ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এসে একজন সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তরুণ প্রজন্মের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, আসিফ মাহমুদ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেই পদত্যাগ করেছেন।

নির্বাচন ঘিরে অস্থিরতা

গাজীপুর-২ থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ-৫ পর্যন্ত বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই বৈষম্যমূলক বরাদ্দ পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকেও এই ধরনের বৈষম্য দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


বিশ্লেষণ: ২০২৫ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই বরাদ্দ নীতি কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং নৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। ১৯৫০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ অসংখ্য আন্দোলনের মাধ্যমে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে যখন স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠে, তখন তা গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমিয়ে দেয়। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই বিতর্কিত বরাদ্দগুলো অবিলম্বে স্থগিত করা প্রয়োজন।

সূত্র: স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বিশেষ সেল, যুগান্তর ডিজিটাল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং বিডিএস ইনভেস্টিগেশন টিম।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency