| বঙ্গাব্দ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত ও এনসিপিকে সতর্ক করল ইসি |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 1560359 বার পঠিত
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত ও এনসিপিকে সতর্ক করল ইসি |
ছবির ক্যাপশন: আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত ও এনসিপিকে সতর্ক করল ইসি |

আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জামায়াত ও এনসিপি-সহ ৪ দলকে ইসির কড়া হুশিয়ারি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ চারটি রাজনৈতিক দলকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রধানদের কাছে এ সংক্রান্ত সতর্কতামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির চিঠিতে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এবং খেলাফত মজলিসের আমিরের নাম উল্লেখ করে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইসি জানায়, আগামী ২১ জানুয়ারির আগে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা আইনত নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এই দলগুলো প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। এই কর্মকাণ্ড ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের জনসভা বা প্রচার চালানো যাবে না।

নির্বাচনী সময়সূচি ও বিধিনিষেধ

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে এবং শেষ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশব্যাপী বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য যে, এই নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কার বিষয়ে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও আচরণবিধি পালনের গুরুত্ব সবসময়ই অপরিসীম। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধেও এ দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন ছিল। ১৯৮০-র দশকে সামরিক সরকারের অধীনে হওয়া নির্বাচনগুলোতে জালিয়াতির বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ১৯৯১ সালে দেশে অবাধ নির্বাচনের ধারা ফিরে আসে।

তবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন (২০২৬) একটি ভিন্ন মাত্রা বহন করছে। প্রথমবারের মতো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব থেকে গঠিত 'জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)' এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন পর জামায়াতে ইসলামীও বড় পরিসরে মাঠে ফিরেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের সংস্কার কার্যক্রমের পর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় রাখা ইসির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষণ

নির্বাচন কমিশনের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে, তারা এবার নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষ করে প্রভাবশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে জামায়াত ও এনসিপির মতো বড় ও নতুন শক্তির বিরুদ্ধে এই সতর্কতা নির্বাচনী উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রচারণা পর্বে দলগুলো কতটা আইন মেনে চলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সূত্র: যুগান্তর, বাসস (BSS), প্রথম আলো এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর ইসি সচিবালয়।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency