প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে নতুন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন ডা. তাসনিম জারা এবং তাঁর স্বামী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদত্যাগকারী নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া দীর্ঘ এক প্রচারণাকে ‘বানোয়াট, অনুমাননির্ভর ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছেন খালেদ সাইফুল্লাহ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই অপপ্রচারের নেপথ্যে থাকা তথাকথিত ষড়যন্ত্রের স্বরূপ উন্মোচন করেন।
খালেদ সাইফুল্লাহর মতে, ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়াকে ‘বিশেষ মহলের সুবিধা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি তথ্য দিয়ে জানান, প্রথম দুই দিনেই প্রায় ১১০ জন আপিলকারীর প্রার্থিতা মঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি), যার মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্না ও হাসনাত কাইয়ূমের মতো সিনিয়র নেতারাও রয়েছেন। সুতরাং, জারার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়া একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া।
এছাড়া, তাদের পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে কোনো বিশেষ দলের (যেমন জামায়াত) সাথে সম্পৃক্ত করার দাবিকে তিনি বানোয়াট বলে উড়িয়ে দেন। খালেদ স্পষ্ট করেন যে, তিনি বা জারা এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আগে কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না। ক্রাউডফান্ডিং নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২৫ ডিসেম্বর জামায়াতের সাথে এনসিপির জোটের খবর জানার পর জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন এবং পরে নীতিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুৎসা রটানো ছিল প্রতিপক্ষকে দমনের অন্যতম হাতিয়ার।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ শাসনামলে স্বাধিকার আন্দোলনের নেতাদের অনেক সময় ‘বিদেশি চর’ বা ‘চরিত্রহীন’ প্রমাণের চেষ্টা করত ব্রিটিশ গোয়েন্দারা। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সাম্প্রদায়িক তকমা দিয়ে অনেক শিক্ষিত তরুণকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
১৯৫২ - ১৯৭১: ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ও বাঙালি নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন ও ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কুৎসা রটাত। এমনকি ১৯৭১ সালেও বুদ্ধিজীবীদের চরিত্র হনন করে তাঁদের জনবিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
১৯৯০ - ২০২৪: গত তিন দশকে সাইবার স্পেসের বিস্তৃতির ফলে এই ‘চরিত্র হনন’ বা ‘ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’ নতুন মাত্রা পায়। ২০১৭ সালে জারার বিয়ের একটি পোস্টকে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সামনে আনা সেই পুরনো ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে মনে করছেন খালেদ।
২০২৫ - ২০২৬ এর লক্ষ্য: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সাল ছিল সংস্কারের বছর। কিন্তু ২০২৬ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে দেখা যাচ্ছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার এখনো শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের রাজনীতিতে আসার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালেদ সাইফুল্লাহর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়) নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা সেই কুচক্রী মহলের অজ্ঞতা ও বিদ্বেষকেই প্রকাশ করে।
খালেদ সাইফুল্লাহর এই প্রতিবাদ আসলে আধুনিক বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি লড়াই। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে প্রমাণ ছাড়াই অপবাদ দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ভোটারদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে ডা. তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহর মতো শিক্ষিত ব্যক্তিদের এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু হওয়া যে ক্ষমতার লড়াই, তা আজ ডিজিটাল যুগে আরও বেশি জটিল ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছে।
সূত্র: ১. খালেদ সাইফুল্লাহর আনুষ্ঠানিক ফেসবুক বক্তব্য ও ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী সেল (১৪ জানুয়ারি ২০২৬)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল মঞ্জুর সংক্রান্ত গেজেট (জানুয়ারি ২০২৬)। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিবর্তন ও সাইবার প্রোপাগান্ডা আর্কাইভ (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |