ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে অজ্ঞাত রোগের প্রকোপ: ৫৩ জনের মৃত্যু, উদ্বেগ প্রকাশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে এক অজ্ঞাত রোগের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এ খবর নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ইকুয়াতর প্রদেশের দুটি গ্রামে এই অজ্ঞাত রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে, এবং বর্তমানে ৪১৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হু সতর্কতা উচ্চারণ করেছে যে, রোগটি দ্রুত ছড়াচ্ছে এবং এতে বড় ধরনের মহামারি সৃষ্টি হতে পারে, যদিও এই রোগের কারণ এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারি থেকে এই রোগের সংক্রমণ শুরু হয়। সংস্থার আফ্রিকা অফিস জানায়, কঙ্গোর বোলোকো শহরের তিনটি শিশুর শরীরে প্রথমবারের মতো এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়। ওই শিশু তিনটি বাদুড়ের মাংস খেয়েছিল, এর পর তাদের মধ্যে তীব্র জ্বর দেখা দেয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি শিশু মারা যায়। শিশুদের মধ্যে এই রোগের তীব্রতা দেখে চিকিৎসকরা পরিস্থিতি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করেন। এরপরই সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং বিশ্বের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও বিস্তৃত পরীক্ষা শুরু করেন।
হু জানিয়েছে, আক্রান্তদের ইবোলা, মারবার্গ ভাইরাস এবং অন্যান্য সাধারণ ভাইরাসের জন্য পরীক্ষা করা হলেও, এসব ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এর মানে হল, বর্তমান রোগটি নতুন বা অজানা কোনও ভাইরাসের কারণে ঘটছে, যা বিজ্ঞানীরা এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারেনি।
এই অজ্ঞাত রোগটি কঙ্গোর ইকুয়াতর প্রদেশের দুটি গ্রামে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং সেখানে অন্তত ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও ৪১৯ জন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এখন রোগটির প্রকৃতি, কারণ এবং এর বিস্তার সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করার জন্য দ্রুত কাজ করছে। তারা আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে রোগটির বিস্তার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
হু এর আফ্রিকা অফিসের পরিচালক মাতা সোরো-সাম্বা বলেছেন, “আমরা প্রতিটি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য এই রোগের বিস্তারকে দ্রুত রোধ করা এবং দ্রুত এর কার্যকর প্রতিকার খুঁজে বের করা।”
এই অজ্ঞাত রোগের লক্ষণগুলি এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবে এখন পর্যন্ত জানা গেছে যে আক্রান্তদের মধ্যে তীব্র জ্বর, দুর্বলতা, মাথাব্যথা এবং শরীরের ব্যথা দেখা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে, রোগীরা দ্রুত অবস্থা খারাপ হতে দেখা গেছে, এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, চিকিৎসকরা রোগটির প্রকৃতি নির্ধারণে পারদর্শী হলেও, এখনও নিশ্চিত কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি বা প্রতিষেধক পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ করতে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা সরবরাহ করতে সাধ্যমতো কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিকভাবে রোগটির বিস্তার রোধে সতর্কতার সাথে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা 강조 করেছেন।
বর্তমানে, কঙ্গো সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলি রোগটির মূল কারণ নির্ধারণের জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বর্তমানে এলাকায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং রোগটি ছড়ানোর পথ বন্ধ করার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণ ও সমর্থন প্রদান করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমরা সব ধরনের চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত রোগের প্রকৃতি এবং এর বিস্তার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগের বিস্তার বন্ধ করতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
এছাড়া, কঙ্গোর জনগণকে ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সরকার এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রচারনা চালানো হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় মানুষদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |