বাংলাদেশের রাজস্ব খাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) বর্তমানে এক নজিরবিহীন অচলাবস্থার মুখে পড়েছে। আয়কর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের যৌথ শাটডাউন কর্মসূচি চলমান থাকায় সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর ও বিমানবন্দরে মারাত্মক অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
রোববার (২৯ জুন) এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কর কমিশনার মির্জা আশিক রানা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন,
“এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে বিকেল ৪টায় ডেকেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন।”
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন:
এনবিআরের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ
দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থা নিরসন
কর্মপরিবেশে স্বচ্ছতা ও উন্নয়ন
স্বাধীনভাবে কর আদায় ও নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণের সুযোগ
এগুলো নিশ্চিত না হলে দফায় দফায় শাটডাউন চলবে বলে তারা ঘোষণা দিয়েছে।
বন্দরগুলোতে আমদানি ও রফতানিযোগ্য পণ্য আটকে রয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে পণ্য, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। চট্টগ্রাম, মংলা ও বেনাপোল বন্দর থেকে মালামাল খালাস না হওয়ায় প্রতিদিন কোটি টাকার পণ্য আটকে থাকছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন,
“এনবিআরের অচলাবস্থার কারণে প্রতিদিন গড়ে ২,৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যিক ক্ষতি হচ্ছে।”
বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী বলেন,
“দেশের রফতানিযোগ্য পণ্য বন্দরেই পড়ে থাকছে, এগুলো রোদ-বৃষ্টিতে নষ্ট হচ্ছে।”
ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে সরকারের নীরবতা দুঃখজনক। তারা বলছেন,
আন্দোলনকারীদের শর্তহীন কাজে ফিরে আসা দরকার
সমস্যা আলোচনার টেবিলে সমাধান করতে হবে
কিছু ছাড় দিয়ে দুই পক্ষকেই আগাতে হবে
এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাসিম মঞ্জুর বলেন,
“কোনো সমস্যারই একতরফা সমাধান হয় না। বসে, কথা বলে, একটা যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছাতে হবে।”
আন্দোলনকারীরা বলছেন,
কর্মপরিবেশে আধুনিকতা নেই
সিদ্ধান্ত নিতে চরম আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
চাকরি নিরাপত্তা ও পদোন্নতির ব্যবস্থা অস্বচ্ছ
টেকসই প্রশিক্ষণের অভাব
এ কারণে রাজস্ব আদায়ের গতি ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ে জাতীয় বাজেটে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন:
জাতীয় রাজস্বের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এনবিআর থেকে
সেখানে এই অচলাবস্থা সরাসরি বাজেট বাস্তবায়নকে হুমকির মুখে ফেলছে
এনবিআরের ওপর রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব রাজস্ব প্রশাসনের স্বাধীনতা নষ্ট করছে
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট আস্থা, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের বিস্ফোরণ।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আলোচনায় বসার মাধ্যমে একটা কার্যকর সমঝোতা বের করার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যে আন্দোলনকারীদের ২০ সদস্যের কমিটি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে।
অতিরিক্ত কর কমিশনার আশিক রানা নিজেই বলেছেন,
“চেয়ারম্যানের পদত্যাগ ও এনবিআরের যৌক্তিক সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।”
সরকারের উচিত:
আন্দোলনকারীদের চাহিদা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা
তাদের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য সংলাপ শুরু করা
এনবিআরে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার রোডম্যাপ তৈরি করা
| প্রভাব | বিবরণ |
|---|---|
| রাজস্ব আদায় স্থবির | কর ফাইল দাখিল, ভ্যাট রিটার্ন, শুল্ক পরিশোধ—সব বন্ধ |
| পণ্য আটকে যাচ্ছে | বন্দরে পচনশীল ও মহামূল্যবান পণ্য পড়ে রয়েছে |
| কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি | ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে |
| বিনিয়োগে নেতিবাচক বার্তা | আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমছে |
| সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন | অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে |
আন্দোলনকারীরা বারবার বলছেন:
“আমরা জনগণের বিরুদ্ধে নই, বরং একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও মর্যাদাপূর্ণ এনবিআর গড়তে চাই।”
তাদের মতে, এই আন্দোলন শুধু চাকরিজীবীদের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং দেশের রাজস্ব ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে।
এনবিআরকে ঘিরে বর্তমান অচলাবস্থা শুধু একটি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সংকট নয়—এটি পুরো অর্থনীতির হৃদযন্ত্রে একটি চাপের সংকেত। এই সংকটের সমাধান না হলে রাজস্ব আদায়, বাণিজ্যিক কার্যক্রম, এমনকি বাজেট বাস্তবায়নেও প্রভাব পড়বে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত—
আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সহানুভূতিশীল ও সময়োপযোগী সংলাপে বসা
শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করা
এনবিআরকে একটি আধুনিক, দক্ষ ও স্বাধীন রাজস্ব সংস্থায় রূপান্তরিত করা
প্রতিবেদক: BDS
Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |