প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবার সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় প্রভাব ফেলেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকার প্রেক্ষিতে এবার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য পর্যটক ভিসা (Tourist Visa) ‘সীমিত’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের শীতল সম্পর্কের এক নতুন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি ২০২৬) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাইয়ে বাংলাদেশের উপদূতাবাসগুলো থেকে ভারতীয়দের পর্যটক ভিসা দেওয়া সীমিত করা হয়েছে। এর আগে দিল্লির দূতাবাস এবং আগরতলার অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার অফিস থেকেও পর্যটক ভিসা প্রায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ভারতের মাত্র একটি কেন্দ্র—গুয়াহাটি থেকে সীমিত পরিসরে ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
যদিও বাংলাদেশ উপদূতাবাস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তবে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে বুধবার থেকেই পর্যটক ভিসা প্রদানের গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাণিজ্যিক (Business Visa) এবং জরুরি অন্যান্য ভিসা সেবা চালু রাখা হয়েছে।
উপমহাদেশের এই দুই ভূখণ্ডের মানুষের যাতায়াতের ইতিহাস শত বছরের পুরনো। ১৯০০ সালের অবিভক্ত বাংলা থেকে শুরু করে আজকের ২০২৬ সাল পর্যন্ত সীমান্ত ও যাতায়াত ব্যবস্থা বহু রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে।
১৯৪৭-১৯৭১: ১৯৪৭-এর দেশভাগের পর ভারত ও পাকিস্তানের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) মধ্যে যাতায়াত কঠোর করা হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত সীমানা উন্মুক্ত করে দেয় এবং ১ কোটিরও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, যা দুই দেশের ইতিহাসে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত।
২০২৪-এর পটপরিবর্তন: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে নাটকীয় মোড় নেয়। ওই সময় বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় ৪টি ভিসা সেন্টারে ভাঙচুর ও বিক্ষোভের পর ভারত তাদের ভিসা কার্যক্রম সীমিত করে দেয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভারত এখনো বাংলাদেশিদের জন্য পূর্ণাঙ্গ পর্যটক ভিসা চালু করেনি।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশ সরকার ভারতের এই একতরফা ভিসা নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে, ভারত যদি বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা সহজ না করে, তবে বাংলাদেশের পক্ষেও ভারতীয়দের অবাধে পর্যটক ভিসা দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এক বড় ফ্যাক্টর। গত কয়েক দিনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা দিতে ভারতের অস্বীকৃতি এবং আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশের জনমনে ভারতবিরোধী ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে এক বড় ধরনের ভারসাম্যের পরিবর্তন ঘটছে। ভারতের পক্ষ থেকে মেডিকেল ভিসা ছাড়া অন্যান্য ভিসা বন্ধ রাখায় বাংলাদেশের পর্যটন ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, পাল্টা ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার নিজের আত্মমর্যাদা ও সমমর্যাদার জানান দিচ্ছে।
সূত্র: ১. বিবিসি নিউজ (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাস সূত্র। ৩. পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ক ডেস্ক।
মেটা টাইটেল: ভারতীয়দের জন্য পর্যটক ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ: ২০২৬-এর নতুন কূটনৈতিক সংকট মেটা ডেসক্রিপশন: ভারত কর্তৃক বাংলাদেশিদের ভিসা না দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় কলকাতা, মুম্বাই ও চেন্নাই উপদূতাবাসে ভারতীয়দের ভিসা সীমিত করল বাংলাদেশ। ১৯০০ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবর্তন নিয়ে বিডিএস বুলবুল আহমেদের বিশেষ প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |