তারেক রহমানের বার্তা: “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে”—শহীদ জেহাদ দিবসে বিএনপি নেতাদের অঙ্গীকার
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।”
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক লিখিত বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন,
“শহীদ জেহাদ দিবসে আমি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি।”
তিনি আরও বলেন,
“শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ ৯০-এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সেই গণআন্দোলন, যা বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নতুন অধ্যায় রচনা করে।”
তারেক রহমানের মতে,
“স্বৈরশাসক এরশাদ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েই জেহাদ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তাঁর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ না দিতে পারলে তাঁর আত্মা কষ্ট পাবে।”
তিনি আরও বলেন,
“গণতন্ত্রের ধারা বহমান রাখতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে হবে। গণতন্ত্র মানে শুধু নির্বাচন নয়—গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগের প্রেরণায় দেশি-বিদেশি অপশক্তির চক্রান্ত প্রতিহত করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।”
একই দিনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক পৃথক বার্তায় বলেন,
“শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক চিরস্মরণীয় নাম। তাঁর আত্মত্যাগই স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রের বিজয় এনে দিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন,
“যে স্বপ্ন ও আশা নিয়ে শহীদ জেহাদ সেদিন স্বৈরাচারীর বুলেট নিজের বুকে বরণ করেছিলেন, সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের প্রধান কাজ।”
শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদ ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর ঢাকার নীলক্ষেত মোড়ে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
জেহাদের মৃত্যু গণআন্দোলনে নতুন গতি আনে, যা অবশেষে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ এরশাদের পতনে পরিণত হয় এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে।
এর পর থেকে প্রতি বছর ১০ অক্টোবর দিনটি বিএনপি ও ছাত্র সংগঠনগুলো ‘শহীদ জেহাদ দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, শহীদ জেহাদ দিবসে বিএনপির এই বার্তাগুলি কেবল ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ নয়—এটি ২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থায় বিএনপি নেতৃত্ব “স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র”—এই তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক ও আন্দোলন কৌশল নির্ধারণ করছে।
১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পটভূমি ও ২০২৫ সালের বাস্তব রাজনীতির মধ্যে তুলনা টেনে তারা দেখাচ্ছে, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এখনো অসম্পূর্ণ।
তারেক রহমানের বক্তব্য, বিশেষত “গণতন্ত্র মানে মানুষের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা”—এই বাক্যটি বিএনপির ভবিষ্যৎ আন্দোলনের দিকনির্দেশক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শহীদ জেহাদের রক্তে অর্জিত গণতন্ত্র আজও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।
তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুলের বার্তা স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রকে রক্ষা করা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, এটি একটি জাতীয় দায়িত্ব।
বিএনপি নেতৃত্ব সেই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারের সূত্র ধরে আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন উদ্দীপনা আনতে চায়।
যুগান্তর – “শহীদ জেহাদ দিবসে তারেক রহমানের বার্তা: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।”
বাংলাদেশ প্রতিদিন – “শহীদ জেহাদ দিবসে বিএনপি নেতাদের শ্রদ্ধা ও বার্তা।”
The Daily Star (Archive, 1990–2025) – “The fall of Ershad and the legacy of Naziruddin Jehad.
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |