প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে দাবি উঠেছিল, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। এই ব্যস্ত সময়ে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল রাজধানীর বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সাথে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং উপপ্রধান মনিকা বাইলাইতে।
বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, "গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অভাব। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, যদি আগামী নির্বাচন স্বচ্ছ না হয়, তবে এই সংকট আরও গভীরতর হবে।" উল্লেখ্য যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসন্ন নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যবেক্ষক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বাংলার রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ—প্রতিটি বাঁকেই এদেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থার জন্য লড়াই করেছে।
১৯৭১-১৯৯০: স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালের মর্মান্তিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তীতে সামরিক শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে এদেশের গণতন্ত্র। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এরশাদ সরকারের পতনের পর আশা জেগেছিল এক নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের।
১৯৯১-২০২৪: দীর্ঘ তিন দশকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এবং ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের (জানুয়ারি) একতরফা ও 'পাতানো' নির্বাচনগুলো দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছিল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব নেয়। ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নির্বাচন কমিশন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ ঘোষণা করে। বর্তমানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই সপ্তাহের মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান জামায়াত আমিরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাতে মূলত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ক্যাম্পাস ও দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জামায়াত নেতাদের মতে, গত দেড় দশকে কোটি কোটি তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ২০২৬ সালের নির্বাচন হবে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। তবে প্রশাসন যদি কোনো বিশেষ দলের প্রতি আনুগত্য দেখায়, তবে অতীতের মতো আরেকটি ‘পাতানো’ নির্বাচনের আশঙ্কা থেকে যায়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম ২০২৬ সালে এসে এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ প্রতিদিন (৭ জানুয়ারি, ২০২৬)।
২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) আর্কাইভ।
৩. নির্বাচন কমিশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দলের প্রেস নোট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |