প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের সংস্কারের অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের ১৭ জন কমিশনারকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর ২০২৫) এনবিআরের এক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সম্মতি ও জনস্বার্থে এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের রাজস্ব প্রশাসনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমল থেকেই শুল্ক ও আবগারি কর ব্যবস্থা ছিল অর্থনীতির মেরুদণ্ড। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) গঠিত হয়। তবে ১৯৫০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এনবিআরের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বারবার উঠেছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার এনবিআরকে পুরোপুরি স্বাধীন ও প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সালের এই বড় রদবদল মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসন-১-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ আবুল মনসুর স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে যে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মতি ক্রমেই এই কর্মকর্তাদের আন্তঃদপ্তর বদলি ও নতুন দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করে যোগদানপত্রের অনুলিপি এনবিআর সদরে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনকালীন সময়ে কেন এই বদলি—এমন প্রশ্নে বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে কেবল পুলিশ বা সিভিল প্রশাসন নয়, বরং রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগের শীর্ষ স্তরেও রদবদল জরুরি ছিল। এনবিআরের কমিশনাররা স্থানীয় শিল্প ও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় নির্বাচনের সময় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ২০২৫ সালে এসে এনবিআরকে দুর্নীতিমুক্ত করার যে সংস্কার চলছে, এটি তারই ধারাবাহিকতা।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে যে, গত ১৫ বছরে যারা এনবিআরে শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছিলেন, তাদের সরিয়ে নতুন ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে আগামী নির্বাচনে অর্থের অবৈধ ব্যবহার বা কোনো নির্দিষ্ট মহলের প্রতি বিশেষ অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ কমবে। গুগল এনালাইসিস এবং বর্তমান প্রশাসনিক তথ্য বলছে, জানুয়ারি ২০২৬-এর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে রদবদল আসতে পারে।
সূত্রসমূহ: ১. জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) অফিসিয়াল প্রজ্ঞাপন (ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (EC) সচিবালয়। ৩. বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ ও সরকারি গেজেট (২০২৪-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |