ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: শরিকদের আরও ৮ আসন ছাড়ল বিএনপি; ১৯৫০-২০২৫ রাজনীতির নতুন সমীকরণ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'যুগপৎ' আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য সুসংহত করতে আরও ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করেন।
বিএনপি মহাসচিব জানান, শরিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে বর্তমানে ৮টি আসনে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনগুলোতে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। মনোনীত প্রার্থীরা হলেন:
| আসন | প্রার্থীর নাম ও দল |
| বগুড়া-২ | মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি, নাগরিক ঐক্য) |
| পিরোজপুর-১ | মোস্তফা জামাল হায়দার (চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি-কাজী জাফর) |
| নড়াইল-২ | ফরিদুজ্জামান ফরহাদ (চেয়ারম্যান, এনপিপি) |
| যশোর-৫ | মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাস (ইসলামী ঐক্য জোট) |
| পটুয়াখালী-৩ | নুরুল হক নুর (সভাপতি, গণঅধিকার পরিষদ) |
| ঝিনাইদহ-৪ | রাশেদ খান (সাধারণ সম্পাদক, গণঅধিকার পরিষদ) |
| ঢাকা-১২ | সাইফুল হক (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি) |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ | জোনায়েদ সাকি (প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন) |
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বাঁকগুলোতে জোট ও সমঝোতা সবসময়ই ভাগ্যনির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৫০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পরিক্রমা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
১৯৫০-১৯৫৪: প্রথম মহাজোট (যুক্তফ্রন্ট): ১৯৫০-এর দশকে মুসলিম লীগের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ১৯৫৪ সালে গঠিত হয়েছিল 'যুক্তফ্রন্ট'। সেটি ছিল বাঙালির অধিকার আদায়ের প্রথম বড় জোটগত বিজয়।
১৯৭০-১৯৭১: একাত্মতা: ১৯৭০-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য থাকলেও ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সব দলের অংশগ্রহণ ছিল একীভূত।
১৯৯০: স্বৈরাচার বিরোধী ঐক্য: আশির দশকে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটগুলো যুগপৎ আন্দোলন করে ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিল।
২০২৪-২০২৫: ফ্যাসিবাদ বিরোধী 'যুগপৎ' আন্দোলন: ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর আওয়ামী লীগের শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো 'যুগপৎ' আন্দোলনের ডাক দেয়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এই ঐক্যের প্রতিফলন ঘটে। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই আন্দোলনের শরিকদের মূল্যায়ন করতেই বিএনপি এই আসন সমঝোতার পথে হাঁটছে।
এবারের নির্বাচনের আগে ছোট দলগুলোর বিএনপিতে একীভূত হওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) একাংশের চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা নিজ নিজ দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। বিএনপিও তাদের যথাক্রমে লক্ষ্মীপুর-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন দিয়ে রাজনৈতিক পুরস্কার নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯৫০ সালে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বাঙালির যাত্রা শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালে এসে বিএনপি সেই বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের ধারা বজায় রাখতে শরিকদের জায়গা করে দিচ্ছে। তবে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৭২টিতে প্রার্থী ঘোষণা করা বিএনপি বাকি ২৮টি আসন ছাড় দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যাতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি না হয়।
সূত্র: ১. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মহাসচিবের সংবাদ সম্মেলন (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫)।
২. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও জাতীয় দৈনিকসমূহের প্রতিবেদন।
৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও নির্বাচনী আর্কাইভ (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |