চাকরিয়ায় সম্প্রীতির অনন্য নজির: আওয়ামী লীগ নেতার বাবার জানাজায় সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন চরম অস্থিরতা ও প্রতিহিংসার সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেখা গেল এক বিরল ও অনুকরণীয় রাজনৈতিক সম্প্রীতির দৃশ্য। চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীর বাবা সিরাজ আহমদের (৮৪) জানাজায় অংশ নিয়ে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) দুপুর ২টায় চকরিয়া পৌর কমিউনিটি সেন্টার মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগার পর রোববার রাত ৮টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন সিরাজ আহমদ। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জানাজায় উপস্থিত হয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
জানাজায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য এইচএম সালাহউদ্দিন মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং চকরিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর চৌধুরী। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্কের এই বহিঃপ্রকাশ চকরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
শোকাতুর এই জানাজায় আরও শরিক হন:
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী।
মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহীম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হেফাজতুর রহমান টিপু।
জেলা ও উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতা হেদায়েত উল্লাহ, মোজাম্মেল হক ও আরিফুল কবির।
পৌরসভা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯০০ সালের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন পর্যন্ত সকল পর্যায়ে সামাজিক সংহতি একটি বড় শক্তি ছিল। বিশেষ করে ১৯৪৬-এর দাঙ্গা বা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সংকটে রাজনৈতিক নেতারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা দিতেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে মেরুকরণ বাড়লেও চকরিয়া-পেকুয়া অঞ্চলে সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো হেভিওয়েট নেতাদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সবসময়ই ঈর্ষণীয়। ২০২৪-২৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের এই নতুন বাংলাদেশে যেখানে 'সংস্কার' ও 'সহনশীলতার' কথা বলা হচ্ছে, সেখানে চকরিয়ার এই ঘটনা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই থাকবে, কিন্তু মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন সম্প্রীতিই পারে একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে।
গুগল ট্রেন্ডস এবং সাম্প্রতিক সামাজিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের মানুষ এখন বিভাজনের রাজনীতির চেয়ে ঐক্য ও সম্প্রীতির খবর বেশি পছন্দ করছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক তিক্ততার পর, এক নেতার জানাজায় অন্য দলের নেতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ২০২৬ সালের আগামী নির্বাচনের আগে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তার ইঙ্গিত দেয়। সালাহউদ্দিন আহমেদের এই অংশগ্রহণ চকরিয়া-পেকুয়া তথা পুরো কক্সবাজারে বিএনপির সাংগঠনিক উদারতাকে যেমন প্রকাশ করেছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি করেছে।
তথ্যসূত্র: ১. স্থানীয় সংবাদিকদের মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন (চকরিয়া, কক্সবাজার)। ২. বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত প্রেস নোট। ৩. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জানাজা সম্পর্কিত ডিজিটাল আর্কাইভ (১৯৭১-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |