ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: ৪ শতাংশ ভোটারের অগ্রাধিকার নিরাপত্তা, সহিংস রাজনীতিকে ৯২ শতাংশের ‘না’
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনআকাঙ্ক্ষার এক নতুন চিত্র ফুটে উঠেছে। ভোটারদের কাছে এখন উন্নয়নের চেয়েও জানমালের নিরাপত্তাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রত্যাশা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের সাম্প্রতিক (নভেম্বর ২০২৫) জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ মানুষ আগামী সরকারের কাছ থেকে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে এই চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
জরিপের ফল অনুযায়ী, ৪৯ শতাংশ নাগরিক মনে করেন বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ৯২ শতাংশ ভোটার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সহিংসতায় জড়িত কোনো দল বা প্রার্থীকে তারা ভোট দেবেন না। তবে এখনো ৩৩ শতাংশ ভোটার কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি, যাদের আস্থা অর্জন করাই এখন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সংলাপে ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি চিফ অব পার্টি আমিনুল এহসান বলেন, "নিরাপত্তাহীনতা শুধু জনজীবন নয়, ভোটারের অংশগ্রহণ ও গণতান্ত্রিক আস্থাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।"
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা ছিল অধিকার আদায়ের। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই জনগণের অংশগ্রহণ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু পরবর্তী দশকগুলোতে, বিশেষ করে আশির দশকের স্বৈরশাসন এবং পরবর্তী তিন দশকের দ্বিদলীয় শাসন ব্যবস্থায় রাজনীতিতে পেশিশক্তি ও সহিংসতার অনুপ্রবেশ ঘটে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর ২০২৫ সালটি বাংলাদেশের জন্য এক সংস্কারের বছর। ১৯৫০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় ২০২৫ সালের ভোটাররা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা প্রার্থীর অতীত রেকর্ড এবং সহিংসতার সংশ্লিষ্টতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নাগরিক সংলাপে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দেন:
ড. শামীম রেজা (ঢাবি অধ্যাপক): তিনি বলেন, কাঠামোগত বৈষম্য থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। একপক্ষ সুবিধা পায়, অন্যপক্ষ বঞ্চিত হয়—এই সংস্কৃতি বদলাতে হবে।
সাইমী ওয়াদুদ (আইন বিভাগ, ঢাবি): তার মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতিই সহিংসতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতর গণতন্ত্রের চর্চা জরুরি।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (বিএনপি): তিনি জানান, বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এককভাবে সরকার গঠন করবে না। বরং বিরোধী দলকে সংসদের আসন সংখ্যার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি হাদি হত্যা পরবর্তী ঘটনাকে ‘মব সন্ত্রাস’ হিসেবে আখ্যা দেন।
সাইফুল আলম খান (জামায়াতে ইসলামী): তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার দাবি জানান এবং সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডা. সাজেদুল হক রুবেল ও ডা. তাজনূভা জাবীন: তারা রাজনীতিতে কালো টাকা ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাব বন্ধ এবং নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার করার আহ্বান জানান।
আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষপ্রান্তে এসে এই সংলাপটি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। ভোটাররা আর রক্তক্ষয়ী রাজনীতি নয়, বরং একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চান।
সূত্র: ১. ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও যমুনা টেলিভিশনের যৌথ জরিপ প্রতিবেদন (নভেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. নির্বাচন কমিশন ও বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক নির্বাচনী রোডম্যাপ ও প্রজ্ঞাপন। ৩. বাংলাদেশ আর্কাইভস ও ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক রেকর্ড (১৯৫০-২০২৫)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |