প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে জীবন দিতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে একটি পক্ষ তার ওপর অতীতে হওয়া হামলার মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর বিজয়নগরে শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার প্রতিবাদ ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত শোক র্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর নিজের ওপর হওয়া হামলার বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার ওপর যখন হামলা হয়েছিল, তখন যদি এই সরকার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করত, তবে খুনিরা আজ শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার সাহস পেত না। এ সরকার বিপ্লবীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই আজ রাজপথে রক্ত ঝরছে।" তিনি আরও দাবি করেন, সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা একটি পক্ষ ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে কাজ করছে এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে।
বক্তব্যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে নুর বলেন, ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার আগমুহূর্ত পর্যন্ত যেভাবে এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে মেধাশূন্য করার চেষ্টা করা হয়েছিল, বর্তমান প্রেক্ষাপটেও একই ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি বলেন, "১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল, বর্তমানেও ঠিক একইভাবে যারা বিপ্লবী আছে, তাদের শেষ করে দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।"
বর্তমান সরকারের আমলে 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনির সংস্কৃতির সমালোচনা করে নুর বলেন, "সরকারের ব্যর্থতায় আজ প্রথম আলো, ডেইলি স্টারের মতো প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। এমনকি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবিরের মতো ব্যক্তিত্বকেও হেনস্তা করা হচ্ছে। এসব নেতিবাচক প্রচারণা বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।"
সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "শরীফ ওসমান হাদির খুনিরা কীভাবে পালিয়ে যেতে পারল? আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তখন কী করছিল? বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি অতীতে ছিল, এই সরকারের আমলেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি।" তিনি এই সরকারকে 'শতভাগ ব্যর্থ' হিসেবে অভিহিত করেন।
শোক র্যালিতে দলের অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বিজয়নগর থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে।
বিশ্লেষণ: নুরুল হক নুরের এই বক্তব্য ২০২৫ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মূল দাবি ছিল সাম্য ও ইনসাফ। কিন্তু ২০২৫ সালে এসেও যখন রাজপথে বিপ্লবীদের জীবন দিতে হচ্ছে এবং গণমাধ্যম আক্রান্ত হচ্ছে, তখন তা অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়াকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। নুরের এই অভিযোগ মূলত বর্তমান শাসনের ভেতরে থাকা প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বিচারহীনতার পুরনো ক্ষতকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিজয়নগর শোক সমাবেশ থেকে প্রাপ্ত বক্তব্য, গণঅধিকার পরিষদের প্রেস উইং এবং জাতীয় সংবাদ সংস্থার আর্কাইভ।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |