প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। শনিবার (২০ ডিসেম্বর ২০২৫) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে তার ঐতিহাসিক নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। শরীফ ওসমান হাদির এই বীরোচিত প্রস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক।
শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মামুনুল হক শরীফ ওসমান হাদির সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। তিনি লিখেন, ‘শরীফ ওসমান হাদিকে আমি জীবনে মাত্র তিনবার স্পর্শ করতে পারলাম। এরপরই ও চলে গেল অন্য এক জগতে। ধরাছোঁয়ার বহু ঊর্ধ্বে।’
প্রথম সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৪ মে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউশনে শাপলা স্মৃতি সংসদের কনফারেন্সে হাদি তার আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। সেখানে হাদি তার সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে আন্দোলনের মুখপাত্র হয়ে ওঠার গল্প শুনিয়েছিলেন।
দ্বিতীয়বার স্পর্শ করার মর্মান্তিক বর্ণনা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, "১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে যখন তাকে আততায়ীরা গুলি করে, তখন তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিস্তেজ অবস্থায় দেখি। শেষবার আজ তাকে স্পর্শ করলাম কফিনবন্দি অবস্থায়, যখন তাকে অন্তিম শয্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।"
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৫-এর বর্তমান পরিস্থিতি—প্রতিটি বাঁকেই তরুণদের আত্মত্যাগ জাতিকে পথ দেখিয়েছে। ১৯৫০-এর দশকে যে রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের বিপ্লবীরা আজ রাষ্ট্র সংস্কারের লড়াইয়ে প্রাণ দিচ্ছে। মামুনুল হক তার পোস্টে উল্লেখ করেন, হাদির এই মৃত্যু জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আবারও পুনর্জাগরিত করেছে। খুনিরা হয়তো লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে, কিন্তু হাদি অমর কাব্যের অংশ হয়ে গেছেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। উপস্থিত বক্তারা বলেন, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন বর্তমান সময়ের এক নির্ভীক কণ্ঠস্বর। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবির সান্নিধ্যে দাফন করা হয়, যা তার দেশপ্রেম ও সাহসিকতার প্রতি জাতির এক অনন্য সম্মান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শরীফ ওসমান হাদির এই বিদায়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার দাবি করেছে।
বিশ্লেষণ: শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৫২ সালে সালাম-বরকত যে ত্যাগের সূচনা করেছিলেন, ২০২৫ সালে এসে শরীফ ওসমান হাদিরা সেই একই ধারায় দেশের স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় জীবন দিচ্ছেন। আল্লামা মামুনুল হকের এই আবেগঘন পোস্ট মূলত দেশের বর্তমান প্রজন্মের বিপ্লবীদের প্রতি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের গভীর সংহতির বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: আল্লামা মামুনুল হকের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ, ইনকিলাব মঞ্চের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |