| বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার থেকে লাশ উত্তোলন শুরু; নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশেষজ্ঞ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-12-2025 ইং
  • 2299371 বার পঠিত
জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার থেকে লাশ উত্তোলন শুরু; নেতৃত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশেষজ্ঞ
ছবির ক্যাপশন: জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় শনাক্তে রায়েরবাজার থেকে লাশ উত্তোলন

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত শহীদদের ডিএনএ শনাক্তকরণ শুরু: আর্জেন্টিনার বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে রায়েরবাজার থেকে লাশ উত্তোলন; সিআইডি প্রধান বললেন, 'জাতির প্রতি দায়িত্ব'

প্রতিবেদকের নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ন্যায়বিচারের পথে: জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের পরিচয় উদঘাটন শুরু

জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী ১১৪ জনের পরিচয় শনাক্তের লক্ষ্যে অবশেষে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কাজ শুরু করেছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। আজ সকাল থেকেই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে অজ্ঞাত শহীদদের লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে সংস্থাটি।

মো. ছিবগাত উল্লাহ এই মহৎ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "এই কবরস্থানে যারা নাম-পরিচয়হীন অবস্থায় শুয়ে আছেন, তাদের পরিচয় তখন যাচাই-বাছাই করা হয়নি। তাদের পরিচয় উদঘাটন করা জাতির প্রতি আমাদের একটি দায়িত্ব। আজ সেই মহান কাজের সূচনা হলো।"

লাশ উত্তোলনের পর সেগুলোর ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে। ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার পর ধর্মীয় সম্মান বজায় রেখে পুনঃদাফনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ও আইনি প্রক্রিয়া

অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের এই জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনে। সিআইডি প্রধান জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা (ওএইচসিএইচআর)-এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনা থেকে আগত প্রখ্যাত ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডার ঢাকায় এসে পুরো কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই কার্যক্রমটি বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। গত ৪ আগস্ট মোহাম্মদপুর থানার এসআই মাহিদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ১১৪টি লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেন। গত বছর (২০২৪) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিহত এই অজ্ঞাত শহীদদের রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।

সিআইডি প্রধান আরও জানান, "এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। অজ্ঞাত শহীদদের পরিবার আবেদন করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুসরণ করে কবরস্থান থেকে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।"

পরিচয় শনাক্ত: শহীদদের প্রকৃত সংখ্যা ও পরিবারের প্রত্যাশা

সিআইডি প্রধানের দেওয়া তথ্যমতে, লাশ শনাক্তের জন্য ইতিমধ্যে ১০ জন আবেদন করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কবরস্থানে শহীদের সংখ্যা ১১৪ জনের চেয়ে বেশি হতে পারে। প্রকৃত সংখ্যা লাশ উত্তোলনের পর জানা যাবে।

মো. ছিবগাত উল্লাহ নিশ্চিত করেছেন যে ডিএনএ সংগ্রহের পর, যে কেউ আবেদন করলে সহজে নিহতদের শনাক্ত করা যাবে। তিনি বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের পরিচয় শনাক্ত হলে, পরিবার চাইলে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।" এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিআইডি তাদের হটলাইন নম্বরগুলো জানিয়ে দেবে, যাতে আগ্রহী যে কেউ যোগাযোগ করতে পারেন।

১৯৫০ থেকে ২০২৫: বিচার ও পরিচয়ের দীর্ঘ ইতিহাস

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) গণআন্দোলন এবং তাতে আত্মত্যাগ নতুন নয়। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রক্ত ঝরেছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা স্বীকৃতি পেতে দীর্ঘ সময় লেগেছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ছিল এই সময়ের সবচেয়ে বড় জনবিক্ষোভ, যেখানে আন্দোলনকারীরা মূলত বৈষম্যবিরোধী দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। এই অভ্যুত্থানে নিহতদের অনেকেই ছিলেন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ, যাদের পরিচয় তখন জরুরি অবস্থায় সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মো. ছিবগাত উল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি জাতির প্রতি নৈতিক দায়িত্ব পালন। ন্যায়বিচারের এই প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, ২০২৫ সালের বাংলাদেশ তার গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য আত্মত্যাগকারীদের ভুলে যায়নি। আর্জেন্টিনার মতো দেশ, যারা তাদের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকারদের পরিচয় উদঘাটনে সফলতা লাভ করেছে, তাদের বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণ এই প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মান ও গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


সূত্র ও বিশ্লেষণ

সূত্র: ১. সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহর ব্রিফিং (৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, রায়েরবাজার)। ২. ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের আদেশ (৪ আগস্ট, ২০২৫)। ৩. জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা (ওএইচসিএইচআর)-এর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ লুইস ফন্ডিব্রাইডারের কার্যক্রম সংক্রান্ত তথ্য।

বিশ্লেষণ প্রতিবেদন কারির নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

বিশ্লেষণ: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী অজ্ঞাত শহীদদের পরিচয় শনাক্তের জন্য সিআইডি কর্তৃক লাশ উত্তোলন শুরু করা বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচারিক ইতিহাসে (১৯৫০-২০২৫) একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া এই অভ্যুত্থানের শহীদদের ডিএনএ শনাক্তের প্রক্রিয়া প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিতে প্রস্তুত। লুইস ফন্ডিব্রাইডারের মতো আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি এই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করছে। শহীদদের পরিচয় শনাক্ত হলে তা শুধু পরিবারগুলোকে মানসিক শান্তি দেবে না, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী নজির স্থাপন করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency