প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ - আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও আলোচনার সূচনা করেছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা একে একে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। বিশেষভাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, "মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করেছে যে, এই ধরনের অপরাধ কখনো ক্ষমা করা যায় না।"
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক যাত্রা ছিল নাটকীয়, যার উত্থান-পতন দুই’ই রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ৪৫ বছরের রাজনীতির মধ্যে শেখ হাসিনা কখনো আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে, কখনো বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসেবে, আবার কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক সময়কালে বাংলাদেশে বিভিন্ন দমন-পীড়ন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, আন্দোলন, এবং সরকার পতনের চেষ্টা ঘটেছে।
মহিউদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক, জানান, "সাড়ে চার দশকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন। যখনই বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কথা হবে, শেখ হাসিনার নাম আসবেই।"
শেখ হাসিনার বর্তমান শাসনামলে তার নেতৃত্বে অনেক তীব্র রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেছে। বিএনপি নেতারা তার ক্ষমতার দমন-পীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অভিযোগ করে আসছেন। এর ফলে দলের বিরুদ্ধে আজীবন নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি উঠেছে।
এদিকে, ১৯৭৫ সালের পর শেখ হাসিনার প্রথম রাজনৈতিক নেতৃত্ব গ্রহণ ঘটেছিল ভারতে অবস্থানকালীন। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই দলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা পেতে শুরু করেন শেখ হাসিনা।
১৯৭৫ সালের সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ মজিবুর রহমান নিহত হলে আওয়ামী লীগ ভেঙে পড়ে। আবদুর রাজ্জাক, ড. কামাল হোসেন, এবং বেগম জোহরা তাজউদ্দিন দলের নেতৃত্বে ফিরে আসতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮১ সালে তিনি দলের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং তার নেতৃত্বে দলটি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর বিডিআর বিদ্রোহ, গ্রেনেড হামলা, এবং বিরোধী আন্দোলন দমন ঘটনায় রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়ে যায়। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হামলা, ২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন, এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও সহিংসতা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।
এই সব রাজনৈতিক সহিংসতা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ এর জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ড. রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “এটি মানবতাবিরোধী অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে কাউকে এরকম অপরাধ করার সুযোগ না দেওয়ার বার্তা দিয়েছে।”
শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বাতিল এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার শাসনের প্রতি জনগণের ক্ষোভ বাড়িয়েছে। ২০১৪, ২০১৮, এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে অসহিষ্ণুতা এবং বিচারবহির্ভূত সহিংসতা অনেক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, তার রাজনীতিতে ফিরে আসার সুযোগ আছে কিনা। মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, “যদি তার বিরোধীরা শেখ হাসিনার মতোই রাজনীতি চালিয়ে যায়, তবে তার ফিরে আসার একটি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ হাসিনার প্রভাব
এলডিপি’র রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |