মাহরীন চৌধুরীর বীরত্বকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি: শিক্ষকদের জন্য চালু হচ্ছে ‘মাহরীন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড’
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
প্রকাশের তারিখ: ৭ আগস্ট ২০২৫
সংবাদ উৎস: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস ব্রিফিং, সচিবালয় রিপোর্ট
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নিজের জীবন উৎসর্গ করে শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা সাহসী শিক্ষিকা মাহরীন চৌধুরীর স্মরণে চালু হচ্ছে জাতীয় পুরস্কার।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এই তথ্য জানান।
সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি
প্রেস সচিব জানান, “মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি নিয়ে বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিক্ষক ও এক আয়াকে নিয়ে যথাযথ সম্মাননা কীভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে মাহরীন চৌধুরীর বীরত্ব ও আত্মত্যাগ ছিল অনন্য।”
তিনি বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় খুব শিগগিরই একটি জাতীয় পুরস্কার চালু করবে, যার নাম হবে ‘মাহরীন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিসেস’। এটি শুধু শিক্ষক শ্রেণিকে দেওয়া হবে, যারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী বা সমাজের কল্যাণে অসাধারণ সাহসিকতা ও দায়িত্ব পালন করেছেন।”
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি: এক হৃদয়বিদারক সকাল
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে মাইলস্টোন স্কুলের পাশে একটি শিক্ষার্থীবাহী বাসের সামনে জরুরি অবতরণ করতে গিয়ে একটি ছোট চার্টার্ড বিমান বিধ্বস্ত হয়।
বিমানটি একটি গুদামের ছাদ ভেঙে মাইলস্টোন স্কুলের একাংশে ধাক্কা খায়।
সেসময় মাহরীন চৌধুরী দ্রুত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যেতে গিয়ে নিজে বিমানের ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন। তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
তার এই আত্মত্যাগ ও বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশের মানুষকে নাড়া দেয়। সামাজিক মাধ্যমে “মা-গুরু মাহরীন” নামে তাকে অভিহিত করে শ্রদ্ধা জানায় হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবক।
জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক পুরস্কারের দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশে এত দিন পর্যন্ত ‘শ্রেষ্ঠ শিক্ষক পুরস্কার’ বা ‘শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান পুরস্কার’ সীমাবদ্ধ ছিল মূলত প্রশাসনিক ও একাডেমিক সাফল্যের মধ্যেই।
মাহরীন চৌধুরী অ্যাওয়ার্ড হতে যাচ্ছে প্রথম জাতীয় সম্মাননা, যা সাহসিকতা, ত্যাগ, সেবাধর্মিতা—এই তিন গুণকে একত্রে মূল্যায়ন করবে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, এটি ভবিষ্যতে শিক্ষক সমাজকে মানবিক ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের রোল মডেল তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে।
সমাজের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সামাজিক মাধ্যমে ইতোমধ্যে 'মাহরীন অ্যাওয়ার্ড' চালুর খবরে ব্যাপক সমর্থন ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অনেকে বলছেন, “এটাই সময় সঠিক মূল্যায়নের।”
অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এই পুরস্কার ২০২৬ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন করা হবে এবং প্রতিবছর শিক্ষক দিবসে এটি দেওয়া হবে।
সূত্র:
-
সচিবালয় ব্রিফিং, ৭ আগস্ট ২০২৫
-
মাইলস্টোন দুর্ঘটনা তদন্ত প্রতিবেদন
-
শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালার খসড়া, ২০২৫
-
সামাজিক মাধ্যম প্রতিক্রিয়া ও সংবাদ আর্কাইভ
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন