টবি ক্যাডম্যানের সাক্ষাৎকার: ট্রাইব্যুনাল ও শেখ হাসিনার বিচার—পূর্ব ও বর্তমানের পার্থক্য
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী—শেখ হাসিনা—মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। এই বিচার প্রক্রিয়া বিশ্বব্যাপী আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে, ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান, যিনি ট্রাইব্যুনালের আইনি পুনর্গঠনের বিশেষ উপদেষ্টা, তার মন্তব্যের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার খোলামেলা ধারণা দিয়েছেন। গত ১৬ নভেম্বর, যুগান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং শেখ হাসিনার বিচার নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
যুগান্তরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে, টবি ক্যাডম্যান বলেন, “এটি স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই নেওয়া হয়েছিল। তবে আজ সেই ট্রাইব্যুনালই তাকে বিচারের মুখোমুখি করেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “তবে, অতীতের বিচার প্রক্রিয়াগুলোতে গুরুতর ত্রুটি ছিল। এই ত্রুটিগুলো থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে পরবর্তীতে বিচার প্রক্রিয়ায় সংশোধন আনা হয়েছে।”
তিনি জানান, “যতটুকু সম্ভব, ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মানের বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে বিচারকরা যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তা যথেষ্ট কি না, তা বিচারকেরাই নির্ধারণ করবেন।”
যুগান্তর টবি ক্যাডম্যানকে প্রশ্ন করে, "শেখ হাসিনার জন্য কোনো আইনজীবী নিয়োগ করা হয়নি, এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনকে যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়েছে—এটা বিচার প্রক্রিয়াকে কতটা প্রভাবিত করেছে?"
এ প্রসঙ্গে টবি ক্যাডম্যান বলেন, “শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালের কার্যধারায় আইনজীবী নিয়োগ না দেওয়ার দাবি সঠিক নয়। তিনি নিজেই ভারতে স্বেচ্ছায় অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং আদালতের একাধিক সমনের প্রতি সাড়া না দেওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী ছিলেন, যিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে শেখ হাসিনার আইনগত অধিকার সঠিকভাবে রক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মামলার সব প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনা করেছেন, সাক্ষী জেরা করেছেন এবং প্রসিকিউশনের প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পেয়েছেন। এটি নিশ্চিত করেছে যে শেখ হাসিনার আইনগত অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছে।”
যুগান্তর প্রশ্ন করে, "এখন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন একজন ‘রাজসাক্ষী’ হয়েছেন, এটি কীভাবে সম্ভব হয়েছে?"
এ প্রসঙ্গে টবি ক্যাডম্যান বলেন, "বিচারপ্রক্রিয়া এখনো চলমান এবং ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। বিচারকরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য যে প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তা যথেষ্ট কিনা তা তারা নির্ধারণ করবেন।"
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার মামলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, এবং এর বিচার হবে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে। সাবেক আইজিপির সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন করেই ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত নেবে।”
টবি ক্যাডম্যান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মতামতের ওপর গুরুত্ব দেন, তবে তিনি উল্লেখ করেন, "বিচারের স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা মূল্যায়ন করবে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা।" তিনি বলেন, “জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিক্রিয়া, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা, গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দেয়, এটি শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণকে আরও জটিল করে তুলবে না।”
তিনি আরও বলেন, "এটি স্পষ্ট যে, মৃত্যুদণ্ডের কার্যকরী সিদ্ধান্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করবে এবং শেখ হাসিনার বিচার হবে নিরপেক্ষভাবে।"
টবি ক্যাডম্যান বলেন, “এই বিচার বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হবে। এটি নিশ্চিত করবে যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়মুক্তি সহ্য করা হবে না।”
যদিও এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি সাধারণ প্রক্রিয়া হয়ে উঠতে পারে—যেমন লাইবেরিয়া, যুগোস্লাভিয়া এবং অন্যান্য দেশে হয়েছে।
এই বিচার বাংলাদেশের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রভাবিত করবে। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দেশের রাজনীতি এবং আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে, বিচার প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণতা এবং ন্যায্যতা কতটুকু নিশ্চিত করা যাবে তা সময়ই বলবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |