| বঙ্গাব্দ

গণভোট বিতর্কে ৭ দিন সময়: ঐক্যমতে ব্যর্থ হলে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে – ড. আসিফ নজরুল

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-11-2025 ইং
  • 2786881 বার পঠিত
গণভোট বিতর্কে ৭ দিন সময়: ঐক্যমতে ব্যর্থ হলে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে – ড. আসিফ নজরুল
ছবির ক্যাপশন: গণভোট বিতর্কে ৭ দিন সময়

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলন: গণভোট নিয়ে ঐকমত্য স্থাপনে দলগুলোকে ৭ দিন সময়, ব্যর্থ হলে সরকারই নেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ 

ভূমিকা: ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, সাত দিনে ঐকমত্যের আহ্বান

দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সংবিধান সংস্কারের পথে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল অন্তর্বর্তী সরকার। সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঘোষণা করেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত 'জুলাই সনদ' ও গণভোটের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে 'ঐক্যবদ্ধ সুপারিশ' জানাতে হবে। এই সময়ের মধ্যে দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে, সরকার নিজেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। একইসঙ্গে, সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১. সভার আলোচনার কেন্দ্রে জুলাই সনদ ও গণভোট

উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভায় মূলত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন (সংবিধান সংস্কার) আদেশের চূড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও তার বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়।

  • ভিন্ন মত ও উদ্বেগ: উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানান, দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এছাড়া, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর বিষয়বস্তু কী হবে— এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভেদ দেখা দেওয়ায় সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

  • জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ: সভায় অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, এই মতভেদ দূর করে গণভোট ও ভিন্নমত প্রসঙ্গে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবের আলোকে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন।

২. দলগুলোর প্রতি 'আহ্বান': সরকারের সময়সীমা ও অবস্থান

ড. আসিফ নজরুল ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জানাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি 'আলটিমেটাম' না দিয়ে বরং 'আহ্বান' জানিয়েছেন, তবে সময়সীমার কড়াকড়ি বজায় রেখেছেন।

এক সপ্তাহের মধ্যে ঐকমত্য না হলে কী হবে? আইন উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, "আমরা কোনো আলটিমেটাম দেইনি...তবে অবশ্যই, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজন হলে সরকার তার মতো সিদ্ধান্ত নেবে।"

  • ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা: দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে দ্রুত সময়ে, সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে, সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

  • আলোচনার আয়োজন নয়: তিনি আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বহু আলোচনার আয়োজন করেছে। তাই সরকার আর নতুন করে আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে না। তবে একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বানকে সরকার স্বাগত জানাচ্ছে।

৩. নির্বাচন ও কালক্ষেপণ না করার গুরুত্ব

আইন উপদেষ্টা বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণ না করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং নির্বাচনের তারিখ নিয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করেন:

  • নির্বাচনের তারিখ: উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম অর্ধে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

  • সময় ফুরিয়ে আসছে: আসিফ নজরুল বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে কোনো সুযোগ নাই সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।"

৪. রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংবাদ সম্মেলনের গুরুত্ব

জুলাই সনদ, গণভোটের সময় নির্ধারণ ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে তীব্র বিভেদ দেখা দিয়েছে, ঠিক এমন সময়েই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এটি একটি বিশেষ ঘটনা, কারণ সরকারের প্রায় ১৫ মাস হয়ে গেলেও এর আগে প্রধান উপদেষ্টা বা তার কার্যালয় থেকে কোনো সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি।


সূত্র:

  1. ৩ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন ও আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্য।

  2. অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত।

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency