| বঙ্গাব্দ

বিএনপি–মিত্রদের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে: ৪০ আসনে ছাড়ের পরিকল্পনা, হেভিওয়েটদের প্রতিযোগিতা তীব্র

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-10-2025 ইং
  • 2940879 বার পঠিত
বিএনপি–মিত্রদের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে: ৪০ আসনে ছাড়ের পরিকল্পনা, হেভিওয়েটদের প্রতিযোগিতা তীব্র
ছবির ক্যাপশন: বিএনপি–মিত্রদের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপি–মিত্রদের কৌশলগত সমীকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও তাদের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন সমঝোতা নিয়ে চলছে টানটান আলোচনা।
সূত্র জানায়, মিত্র দলগুলো ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির কাছে জমা দিয়েছে, এবং এসব আসনের অধিকাংশ জায়গায় তাদের প্রার্থীরা ইতিমধ্যে প্রচারণায় নেমেছেন।

বিএনপি হাইকমান্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সমঝোতা এ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে, এবং মিত্রদের সর্বোচ্চ ৪০টি আসনে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে।


🔹 বিএনপি–মিত্রদের পারস্পরিক চ্যালেঞ্জ

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ আন্দোলনে সক্রিয়, ত্যাগী ও ক্লিন ইমেজধারী নেতা, ফলে মিত্রদের প্রার্থীদের সঙ্গে একাধিক আসনে “মুখোমুখি প্রতিযোগিতা” তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল বিএনপি মনে করে, দলীয় ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতে মনোনয়ন স্থানীয় নেতাদের দেওয়া না হলে সংগঠনিক ঝুঁকি বাড়বে।
অন্যদিকে, মিত্রদের শীর্ষ নেতারা চান—আগে থেকেই দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী অন্তত কয়েকটি প্রতীকী আসন যেন তাদের জন্য সংরক্ষিত থাকে।


🔹 হাইকমান্ডের নির্দেশ: “এক আসনে এক প্রার্থী”

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন,

“যেসব আসনে মিত্রদের প্রার্থী দেওয়া হবে, সেখানে বিএনপির কেউ স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হতে পারবেন না।”

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বহিষ্কারের নির্দেশনাও প্রস্তুত রয়েছে
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেছেন,

“আমরা ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন চাই। জনগণের আস্থা ফিরে পেতে আমাদের রাজনৈতিক শৃঙ্খলাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”


🔹 আসনভিত্তিক সম্ভাব্য সমঝোতা ও প্রার্থীদের তালিকা

এলাকামিত্র দল ও প্রার্থীবিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীমন্তব্য
বগুড়া-২নাগরিক ঐক্য – মাহমুদুর রহমান মান্নামীর শাহে আলম, এম আর ইসলাম, আবদুল বাছেদ২০১৮-তে মান্নাকে ছেড়েছিল বিএনপি; এবার ঢাকার আসন প্রস্তাব হতে পারে
ঢাকা-৮বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি – সাইফুল হকমির্জা আব্বাসহেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিএনপি এখনও সিদ্ধান্ত নেয়নি
ঢাকা-১৭বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) – ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থগোলাম নবী আলমগীর, হায়দার আলী লেলিনপার্থকে ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি
পিরোজপুর-১জাতীয় পার্টি (জাফর) – মোস্তফা জামাল হায়দারনজরুল ইসলাম খান, আলমগীর হোসেন, হাফিজ আল আসাদবিএনপির একাধিক প্রার্থী সক্রিয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬গণসংহতি আন্দোলন – জোনায়েদ সাকিআবদুল খালেক, মেহেদী হাসান পলাশ, রফিক সিকদারদুই গ্রুপে বিভক্ত স্থানীয় বিএনপি
লক্ষ্মীপুর-১এলডিপি – শাহাদাত হোসেন সেলিমইয়াছিন আলীআগেও ধানের শীষে লড়েছেন, আসন ছাড়ের সম্ভাবনা
লক্ষ্মীপুর-৪জেএসডি – তানিয়া রবএবিএম আশরাফ উদ্দিনস্থানীয় বিএনপি হেভিওয়েট
কিশোরগঞ্জ-৫জাতীয় দল – সৈয়দ এহসানুল হুদাশেখ মুজিব ইকবাল, এহসান কুফিয়া, মামুনমিত্র প্রার্থীর মাঠে ভালো অবস্থান
কুমিল্লা-৭এলডিপি – ড. রেদোয়ান আহমেদআতিকুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান, কাজী শাখাওয়াতচারবারের এমপি রেদোয়ানকে ছাড় দেবে বিএনপি
জামালপুর-৫ভাসানী জনশক্তি পার্টি – শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুসিরাজুল হক, ওয়ারেছ আলী মামুন, নিলুফার চৌধুরী মনিহেভিওয়েট প্রতিযোগিতা
ঢাকা-১৩এনডিএম – ববি হাজ্জাজআব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালীববি হাজ্জাজকে সবুজ সংকেত
ঢাকা-৬গণফোরাম – সুব্রত চৌধুরীইশরাক হোসেন, কাজী আবুল বাশারবিএনপি এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দেয়নি
নড়াইল-২এনপিপি – ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদমনিরুল ইসলামসহ ৩ জনআগেও ধানের শীষে নির্বাচন করেছেন
চট্টগ্রাম-১৪এলডিপি – অধ্যাপক ওমর ফারুকঅন্তত ৫ জন স্থানীয় বিএনপি নেতাসম্ভবত মিত্রদের জন্য নিশ্চিত আসন
ঝালকাঠি-১বাংলাদেশ লেবার পার্টি – মোস্তাফিজুর রহমান ইরানরফিকুল ইসলাম জামাল, গোলাম আজম সৈকতপ্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র

🔹 আসন ছাড় কৌশল: “যেখানে জয়ের সম্ভাবনা, সেখানেই মিত্র”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন,

“আমরা এমন আসনেই শরিকদের প্রার্থী দেব, যেখানে বাস্তব জয়ের সম্ভাবনা আছে। আলোচনায় সেই দিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১৮ সালের তুলনায় এবার বিএনপি–মিত্রদের সমন্বয় অনেক বেশি কাঠামোবদ্ধ; দলটি “একক প্রতীকে ঐক্যবদ্ধ ভোটযুদ্ধ”-এর পথে এগোচ্ছে।


🔹 ভেতরের আশঙ্কা: বিদ্রোহী প্রার্থীর ঝুঁকি

তৃণমূল বিএনপির কিছু নেতা আশঙ্কা করছেন,

“মনোনয়ন না পেলে অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। এতে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে কয়েকটি আসনে।”

তবে বিএনপি হাইকমান্ড বলছে,

“স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে বহিষ্কার অনিবার্য।”


বিশ্লেষণ

২০২৫ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি এখন “বিস্তৃত ঐক্যের” নীতিতে এগোচ্ছে।
দলটি চায়—আগামী নির্বাচনে জোটগত প্রার্থী দাঁড়াক একটি সমন্বিত প্রতীকে (ধানের শীষ), যাতে ভোটার বিভ্রান্ত না হন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল বাস্তবায়িত হলে বিএনপি জোট অন্তত ১৮০–২০০ আসনে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকতে পারে।


সূত্র:

  1. বিএনপি নীতিনির্ধারক সূত্র ও যুগ্ম মহাসচিবদের ব্রিফিং (অক্টোবর ২০২৫)

  2. যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের মাঠ-তথ্য

  3. নাগরিক ঐক্য, এলডিপি, জেএসডি, এনডিএম, জাতীয় দল ও বিএনপি সংশ্লিষ্ট জোট কার্যালয়

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency