| বঙ্গাব্দ

পিআর বিতর্কে ফখরুল: ‘দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়’—গণভোট, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী রোডম্যাপ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 15-10-2025 ইং
  • 2973556 বার পঠিত
পিআর বিতর্কে ফখরুল: ‘দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়’—গণভোট, জুলাই সনদ ও নির্বাচনী রোডম্যাপ
ছবির ক্যাপশন: ফখরুল

‘দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন নয়’—পিআর বিতর্কে ফখরুলের আহ্বান, নির্বাচনী রোডম্যাপ ও গণভোট প্রসঙ্গ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠে বুধবার (১৫ অক্টোবর ২০২৫) মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “পিআর আমি নিজেও বুঝি না। দেশটাকে বাঁচান, বিভাজন সৃষ্টি করবেন না। গণভোট আর পিআর ছাড়া নির্বাচন হবে না—এ ধরনের দাবি তুলে আন্দোলন-মিছিল করে তারা নির্বাচন ভণ্ডুল করতে চায়।” তিনি আরও জানান, পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নিয়ে চূড়ান্ত বিতর্ক সংসদেই হবে; যে বিষয়ে দলগুলো একমত, তা ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হবে; অন্যান্য বিষয়ে গণভোট হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে অস্থিরতা কাটানোর আহ্বান জানান। 

সভায় মির্জা ফখরুল শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের রাজনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের নিরাপত্তা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার; প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে; সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাখাতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। 

পিআর বিতর্ক ও ‘জুলাই সনদ’: প্রেক্ষাপট

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশ থেকে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তনের দাবির সঙ্গে ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার-২০২৫’ নিয়ে গণভোটের প্রস্তাব উঠে এসেছে। ন্যাশনাল কনসেনসাস কমিশন (এনসিসি) জানায়, গণভোটের নীতিগত একমত তৈরির আলাপ এগিয়েছে; কেউ কেউ জাতীয় নির্বাচনের দিনেই পৃথক ব্যালটে গণভোট চায়, আবার কেউ নির্বাচন-পূর্ব গণভোটের প্রস্তাব করছে। এ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের অবস্থান—গণভোট-পিআর ইস্যুতে বিভাজন না বাড়িয়ে আগে নির্বাচন করে দেশকে স্থিতিশীল করা দরকার। 

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যে তিনি বলেছেন, পিআর জনগণের পরিচিত কোনো পদ্ধতি নয় এবং এটি নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল হতে পারে—জনগণ তা মেনে নেবে না। 

ইতিহাসের আলোকে গণভোট: ১৯৭৭–১৯৯১ থেকে বর্তমান

বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর তিনটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে—

  • ১৯৭৭: প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ওপর আস্থাভোট; সরকারিভাবে বিপুল সমর্থন দেখালেও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। 

  • ১৯৮৫: প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসন অব্যাহত রাখার গণভোট; ফল নিয়ে বিরোধী দলের জালিয়াতির অভিযোগ। 

  • ১৯৯১: ১২তম সংশোধনী অনুমোদনে গণভোট; ফলে সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন হয়। 

সাম্প্রতিক ‘জুলাই সনদ’কে কেন্দ্র করেও গণভোট আলোচনা জোরালো হয়েছে—কিন্তু রাজনৈতিক মহলে আইনি বৈধতা, সময়সূচি ও পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ রয়ে গেছে। 

কেন এখন নির্বাচন—ফখরুলের যুক্তি

বিএনপি মহাসচিবের মতে, দ্রুত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন শান্তি-স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পূর্বশর্ত। ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সহিংসতা-নিরোধ—এগুলোর নিশ্চয়তাই রাজনৈতিক পক্ষগুলোর আস্থার সেতু তৈরি করবে। পিআর ও গণভোটের মতো নীতিগত প্রশ্ন সংসদীয় আলোচনায় নিরসন হওয়া উত্তম—কারণ আইন প্রণয়ন ও সাংবিধানিক সংশোধনের প্রাতিষ্ঠানিক মঞ্চ সংসদই। 


সূত্র

  1. JagoNews24 (EN), “BNP’s Fakhrul: I myself do not understand PR…”, ঠাকুরগাঁও, ১৫ অক্টোবর ২০২৫। 

  2. BSS (EN/Bangla), “Let’s hold election to save people / বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এক কোটি কর্মসংস্থান…”, ১৫ অক্টোবর ২০২৫। 

  3. The Daily Star / Dhaka Tribune—বাংলাদেশে গণভোটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ‘জুলাই সনদ’ বিতর্ক—রিপোর্ট সিরিজ, ৭–১৪ অক্টোবর ২০২৫। 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency