ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মনিরুল মাওলাকে অর্থ আত্মসাত ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে।
দুদকের দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা যায়, সাবেক এমডি মনিরুল মাওলা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নথিপত্র তৈরি ও ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক থেকে মোট ১ হাজার ৯২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, তিনি এই অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য গোপন করতে একাধিক মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছেন।
এই মামলাটি দুদকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বিত কার্যালয়-১ এ দায়ের করা হয়, যেখানে অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও তথ্য গোপন, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের অভিযোগ যুক্ত রয়েছে।
গত রোববার (২২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে হাজির করা হয়।
সোমবার আদালতে দুদকের পক্ষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপপরিচালক ইয়াসির আরাফাত তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন,
“এই মামলার বিচারিক এখতিয়ার চট্টগ্রামের আদালতে। তাই ঢাকায় রিমান্ড বা জামিন শুনানি করা যাবে না। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, মনিরুল মাওলা কেবল এককভাবে নন, বরং একটি চক্রের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের ভেতরকার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
ভুয়া ঋণের আবেদন, মূল্যায়ন ছাড়াই অর্থ ছাড়, এবং অননুমোদিত উপায়ে অর্থ হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন,
“এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক দুর্নীতির মামলা। শুধু মনিরুল মাওলা নন, আরও বেশ কিছু কর্মকর্তা এই চক্রে যুক্ত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।”
বাংলাদেশের অন্যতম বড় ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। এই ব্যাংকের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন চাঞ্চল্যকর দুর্নীতি-অভিযোগ ব্যাংকিং খাতে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সাবেক নির্বাহী পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এই ঘটনায় ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এত বড় পরিমাণ অর্থ কিভাবে অনুমোদন ছাড়াই সরিয়ে নেওয়া হলো, তা তদন্তের বিষয়।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবাধীন বলে পরিচিত ছিল। অনেকেই মনে করছেন, এই দুর্নীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া কাজ করেছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন,
“অর্থ আত্মসাৎ একদিনে হয় না। এটা ধাপে ধাপে ঘটে—যেখানে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও রেগুলেটরি বডির ব্যর্থতা রয়েছে। দায়িত্বে থাকা সকল পর্যায়ের মানুষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
দুদক সূত্র জানিয়েছে, এই মামলায় শুধু মনিরুল মাওলা নয়, আরও অন্তত ৫ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী গ্রুপের নাম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অর্থ পাচারের বেশ কিছু ট্র্যাক চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানিলন্ডারিংয়ের রুটও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
“এই মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ তদন্ত করে যাচ্ছি। এই অর্থ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চলবে।”
মনিরুল মাওলার গ্রেফতার ও কারাবাস শুধুমাত্র একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের গভীর অসুস্থতা ও দুর্বল জবাবদিহির প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি রোধে কেবল আইনি ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, রেগুলেটরি সংস্থার স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতা।
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |