| বঙ্গাব্দ

আবদুল হাই শিকদার: “বাংলাদেশে কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা দুঃখজনক”

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 19-09-2025 ইং
  • 3221644 বার পঠিত
আবদুল হাই শিকদার: “বাংলাদেশে কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় না থাকা দুঃখজনক”
ছবির ক্যাপশন: আবদুল হাই শিকদার

বাংলাদেশে কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় নেই—এটা আমাদের পরাজয়” : কবি ও সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার

প্রতিবেদনকারীর নাম: বিডিএস বুলবুল আহমেদ


শিল্পকলা একাডেমিতে আবদুল হাই শিকদারের বক্তব্য

কবি, প্রাবন্ধিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেছেন, বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় বহু আছে, কিন্তু একটি কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয়ও নেই। স্বাধীনতার প্রায় ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশে কোনো সাংস্কৃতিক নীতিমালা (Cultural Policy) প্রণীত হয়নি।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) গুলশান-বাড্ডা শাখার নবীনবরণ ও বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বাফার পক্ষ থেকে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।


“শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান কেন বাংলাদেশে নেই?”

আবদুল হাই শিকদার বলেন—

  • ভারতে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেটি আত্মার ভিত্তি রচনা করছে।

  • বাংলাদেশে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় প্রস্তাব করা হয়েছিল এটিকে কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় করার, কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে।

  • উদীচী ও ছায়ানটের মতো প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক কারণে দুর্বল হয়ে গেছে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার দেশে একটি কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় হলে কী সমস্যা হতো? আজ আমাদের সংস্কৃতি ভারতের প্রভাবাধীন, আমরা নিজস্ব সাংস্কৃতিক শক্তিতে সমৃদ্ধ হতে পারিনি।”


সাংস্কৃতিক নীতি ও তরুণ সমাজ

তিনি আরও বলেন—

  • সংস্কৃতি রক্ষায় একটি শক্তিশালী কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা জরুরি।

  • তরুণ প্রজন্মকে সুস্থধারার সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনতে হলে তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি কাঠামো তৈরি করতে হবে।

  • সাংস্কৃতিক নীতিমালা না থাকায় বাংলাদেশি সমাজ বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, “আজ আমাদের ঘরে ঘরে বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব নষ্ট করছে পরিবার ও সমাজ। সময় থাকতে আমাদের সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে।”


অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন—

  • বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী ফাতেমা তুজ জোহরা,

  • অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির মহাব্যবস্থাপক আবু হাসান তালুকদার,

  • ডেইলি ঢাকা প্রেস সম্পাদক খান মোহাম্মদ সালেক,

  • বাচসাস সভাপতি কামরুল হাসান দর্পণ,

  • বেইজক্যাম্প গ্রামার স্কুল চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান তালুকদার

সভাপতিত্ব করেন বাফার গুলশান-বাড্ডা শাখার শাখাপ্রধান নাসির আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা দেন অধ্যক্ষ তৌফিক অপু

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের গান, নাচ, আবৃত্তি পরিবেশিত হয় এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।


ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (১৯৫০–২০২৫)

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বিকাশে নীতির অভাব দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বিষয়—

  • ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ।

  • ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধ: স্বাধীন বাংলাদেশে নিজস্ব সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ে ওঠে।

  • ১৯৮০–৯০ দশক: ছায়ানট, উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন জাতীয়ভাবে প্রভাবশালী হয়।

  • ২০০৫–২০১৫: সাংস্কৃতিক শিক্ষার প্রসারে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি।

  • ২০২৪ জুলাই আন্দোলন: রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সাংস্কৃতিক প্রশ্নও আলোচিত হয়।

  • ২০২৫: স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরও বাংলাদেশে কোনো সাংস্কৃতিক নীতি বা বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


বিশ্লেষণ

  1. সংস্কৃতির শূন্যতা: শিক্ষার বিস্তার হলেও সাংস্কৃতিক শিক্ষার ঘাটতি জাতির মানসিক বিকাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

  2. বিদেশি প্রভাব: ভারত ও পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন তরুণ প্রজন্মকে নিজস্ব শেকড় থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।

  3. রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা: দীর্ঘ ৫৫ বছরে একটি কালচারাল নীতিমালা না থাকা রাষ্ট্রের সংস্কৃতি ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতার প্রমাণ।

  4. ভবিষ্যতের জরুরি পদক্ষেপ: একটি শক্তিশালী কালচারাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও নীতিমালা প্রণয়ন ছাড়া বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক টিকে থাকা কঠিন।


সূত্র

  1. যুগান্তর – আবদুল হাই শিকদারের বক্তব্য (২০২৫)

  2. Wikipedia – Cultural Policy & University Models in South Asia (1950–2025)

  3. UNESCO – South Asian Cultural Heritage and Policy Studies

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency