জাপার একাংশে নতুন নেতৃত্ব: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চেয়ারম্যান, মুজিবুল হক চুন্নু নির্বাহী চেয়ারম্যান
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৯ আগস্ট ২০২৫
জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের দশম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর ইমানুয়েল পার্টি সেন্টারে। এ কাউন্সিলে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছেন আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মহাসচিব পদে এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, এবং সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান পদে কাজী ফিরোজ রশীদ।
দলটির নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে মনোনীত হয়েছেন মুজিবুল হক চুন্নু। নতুন নেতৃত্ব আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে।
কাউন্সিলের আগে বিদায়ী মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দেশবাসীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। তিনি বলেন,
“দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি নৈতিকভাবে কোনো ভুল হয়ে থাকে, কোনো ভ্রান্তি হয়ে থাকে তাহলে দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চাই।”
চার বছরের মহাসচিব দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে চুন্নু বলেন,
“রাজনীতি করতে গিয়ে দলীয় সিদ্ধান্তে সব সময় হয়তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। আমাদের সমালোচনা হয়েছে, কখনো স্বৈরাচারের সহযোগী বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণভাবে রাজনীতি করতে চেয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“জাতীয় পার্টি একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক দল। সব রাজনৈতিক দলকে আমরা অনুরোধ করব—আইন মেনে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনীতি করি, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাই।”
১৯৫০–১৯৭১: পাকিস্তান আমলে জাতীয় পার্টি ছিল না; সে সময়ের রাজনীতিতে আধিপত্য ছিল মুসলিম লীগ ও আওয়ামী লীগের।
১৯৮২: হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পার্টির উত্থান।
১৯৯০: গণঅভ্যুত্থানে এরশাদের পতন, কিন্তু জাপা রাজনীতিতে টিকে থাকে ‘কিংমেকার’ হিসেবে।
১৯৯১–২০০৮: জোট রাজনীতিতে কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপির পাশে থেকে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
২০১৪–২০১৮: ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অংশীদার হয়েও আনুষ্ঠানিক বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন।
২০২৪–২০২৫: জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক পুনর্গঠনে জাপা একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়। এই দশম কাউন্সিল সেই বিভক্ত অংশগুলোর একটির সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের বড় পদক্ষেপ।
দল পুনর্গঠন: নতুন নেতৃত্ব জাপার সাংগঠনিক শক্তি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করবে।
জনআস্থা ফেরানোর কৌশল: চুন্নুর প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনা বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর একটি কৌশল।
নির্বাচন প্রস্তুতি: ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন জাপার রাজনৈতিক সক্রিয়তা বাড়াবে।
ঐতিহাসিক ধারা: ১৯৯০ পরবর্তী প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে জাপা গুরুত্বপূর্ণ ‘পাওয়ার ব্রোকার’ ভূমিকা রেখেছে—নতুন নেতৃত্বও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখার চেষ্টা করবে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
যুগান্তর – জাপার একাংশের দশম কাউন্সিল ও নেতৃত্ব ঘোষণা
বাংলাদেশ রাজনৈতিক ইতিহাস আর্কাইভ (১৯৮২–২০২৫)
গুগল নিউজ আর্কাইভ – জাতীয় পার্টির অতীত ভূমিকা ও বিভক্তি
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |