প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিমে নতুন তিন পরিচালক নিয়োগের কথা জানানো হয়। এই নিয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমানের নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় আরও সুসংহত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিনজন অভিজ্ঞ সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে: ১. মেজর (অব.) মোহাম্মদ শাফাওয়াত উল্লাহ: পরিচালক (নিরাপত্তা)। ২. মেজর (অব.) মইনুল হোসেন: পরিচালক (প্রটোকল)। ৩. ক্যাপ্টেন (অব.) মো: গণী উল আজম: পরিচালক (সমন্বয়)।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তারেক রহমানের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার (CSO) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে।
বাঙালির রাজনৈতিক আন্দোলনে শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তা সবসময়ই একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
১৯০০ - ১৯৪৭: ব্রিটিশ আমলের সুরক্ষা: ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাব পর্যন্ত শীর্ষ নেতাদের সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। তখন 'স্বেচ্ছাসেবক দল' ছিল নেতৃত্বের প্রধান ঢাল।
১৯৭১ ও মুক্তিযুদ্ধ: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রী এবং মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি. ওসমানীর নিরাপত্তার জন্য বিশেষ গেরিলা স্কোয়াড কাজ করত। যুদ্ধকালীন সেই অভিজ্ঞতাই স্বাধীন বাংলাদেশে পেশাদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেয়।
বিএনপির নিরাপত্তা দর্শন (১৯৭৮-২০২৬): শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোতে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো। বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে 'নতুন বাংলাদেশ' গড়ার যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছে, সেখানে পেশাদারত্বের ছোঁয়া দিতেই সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাবোধ এবং পেশাদারত্বের নতুন সংজ্ঞায়ন তৈরি হয়েছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারেক রহমানের নিরাপত্তা টিম পুনর্গঠন কেবল ব্যক্তিগত সুরক্ষাই নয়, বরং দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতারও বহিঃপ্রকাশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের জন্য পৃথক নিরাপত্তা, প্রটোকল এবং সমন্বয় পরিচালক নিয়োগ প্রমাণ করে যে, বিএনপি দীর্ঘমেয়াদী এবং সুশৃঙ্খল রাষ্ট্র পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২৬ সালের বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে যেখানে 'জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)' তাদের নিজস্ব সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করছে, সেখানে বিএনপির এই পদক্ষেপ তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।
সূত্র: বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় (নয়াপল্টন), অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি (৬ জানুয়ারি ২০২৬) এবং বিডিএস ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সির বিশেষ রাজনৈতিক মনিটরিং সেল।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |