| বঙ্গাব্দ

‘জুলাই ঘোষণা’ প্রত্যাখ্যান গণ অধিকার পরিষদের: অংশগ্রহণবিহীন নীতি গ্রহণ যুক্তিযুক্ত নয়

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-08-2025 ইং
  • 3517913 বার পঠিত
‘জুলাই ঘোষণা’ প্রত্যাখ্যান গণ অধিকার পরিষদের: অংশগ্রহণবিহীন নীতি গ্রহণ যুক্তিযুক্ত নয়
ছবির ক্যাপশন: ‘জুলাই ঘোষণা’ প্রত্যাখ্যান গণ অধিকার পরিষদের

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’–প্রত্যাখ্যান গণ অধিকার পরিষদের: নিজেদের অংশগ্রহণ ছাড়া সিদ্ধান্ত গ্রহণে কঠোর আপত্তি

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
স্থান: পুরানা পল্টন, ঢাকা
সূত্র: গণ অধিকার পরিষদের সংবাদ সম্মেলন, গণ অধিকার পরিষদের ইতিহাস ও বিশ্লেষণ

সংবাদ সম্মেলন: ঘোষণা ছাড়া ইশতেহার গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়

আজ রোববার (৩ আগস্ট) গণ অধিকার পরিষদের দলীয় কার্যালয়, পুরানা পল্টনের আল রাজী কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়: “দলীয় কনসেন্ট ছাড়াই চূড়ান্ত করা ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আমরা প্রত্যাখ্যান করছি”

দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, সরকার আলোচনায় অংশগ্রহণ না করেই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করলে তা বিপ্লবের চেতনার বিরোধী হবে।

আন্দোলন থেকে গণতান্ত্রিক শক্তি: কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা

রাশেদ খান দাবি করেন যে, ২০১৮–২০২৪ মধ্যে কোটা আন্দোলন থেকে শুরু করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, ভ্যাটবিরোধী বিভিন্ন প্রতিবাদ ছিল শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি নয়, বরং এটি একটি রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনে রূপায়িত হয়েছিল

“৩৬ দিনের আন্দোলন বহু বছরের সংগ্রামের ফল। একে সীমাবদ্ধ করার মানে অতীত সংগ্রামকে উপেক্ষা করা।”

তিনি উল্লেখ করেন, শাপলাচত্বরে গণহত্যা (২০১৩), ভ্যাট-নামে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের প্রতিবাদ (২০১৫), কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন – এসব ঘটনা তরুণ সমাজকে রাজনীতিক করে তুলেছিল।

খুব স্পষ্ট বার্তা: ভিন্নমতের বিরুদ্ধে চুপ কেন?

রাশেদ খান বলেন:

“দেশজুড়ে শিক্ষাঙ্গনের গেস্টরুম-গণরুমে নির্যাতন, ছাত্র ও সমাজকর্মীদের ওপর মামলা, গুম-খুন, প্রশাসনিক নির্যাতন—এসব দায়প্রতিদায়িত্ব স্বীকার করতে হবে।”

তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার বাম চাকরিতে কঠোর বিরোধিতা করলেও, বিরোধী শক্তিকে গুম বা নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে গণতন্ত্রের নামে।

রায়-নীতি নয়, মানুষ ও আন্দোলন: প্রত্যাখ্যানের যৌক্তিকতা

গণ অধিকার পরিষদ ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠিত, এর আগের সংগঠন ছিল ছাত্র অধিকার পরিষদ, যা কোটা আন্দোলনের সময়—একজোট প্ল্যাটফর্মে শতাব্দীর তরুণ সমাজকে রাজনীতিতে আনে 

একাধিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী এই দল আজ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ঘোষিত ‘জুলাই ইনিশিয়েটিভ’কে বিপ্লবের অংশগ্রহণকারীদের অন্তর্ভুক্ত না করে একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত বলেই উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: একটা দল কীভাবে আন্দোলনের ধারাকে রক্ষা করে?

দিকবিশ্লেষণ
গণ অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক জন্মমূলত ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে। পরবর্তীতে দল গঠন হয়, এবং তা রাজনৈতিকভাবে নিবন্ধিত হয় ২০২৪ সালে 
বিভক্ত সংঘর্ষ২০২৩ সালে দল দুটি অংশে বিভক্ত হয়েছিল—নুরুল হক নূরের অংশ ও রেজা কিবরিয়ার অংশ 
জনশক্তি ও আহ্বানছাত্র, যুব ও জনপদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান; রাজনীতি নয়, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রে আস্থা রাখতে চান
প্রত্যাখ্যানের যুক্তিঅংশগ্রহণকারীদের বাদ দিয়ে ঘোষিত কোনো চূড়ান্ত নীতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
উপসংহার: যোগ্যতা, অংশগ্রহণ ও যৌক্তিকতার ইস্যু

গণ অধিকার পরিষদ বলছে, “জুলাই কারো একার সিদ্ধান্ত হতে পারে না; এটি সবার”—যদি অংশগ্রহণ ও স্বীকৃতি না থাকে, তাহলে সেটা ৭১–এর ইতিহাসের মতো সংকীর্ণ ও একপাক্ষিক হবে

তারা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছে: বিপ্লবীদের সাথে আলোচনা কর, অংশগ্রহণ প্রকাশ কর, তারপর সিদ্ধান্ত নাও। অন্যथा, ঘোষণাপত্র হবে সেই বিপ্লবের চেতনার ক্ষতি।

সূত্র:

  • গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁনের বক্তব্য (৩ আগস্ট ২০২৫)

  • গণ অধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠান গ্রহণ ও বিভাজনের ইতিহাস: Wikipedia 

  • ছাত্র অধিকার ও গণ অধিকার পরিষদের আন্দোলনী গঠন প্রেক্ষাপট: BSS 

    প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
    আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency