| বঙ্গাব্দ

“অপরাধের নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ হাসিনা”—আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বিস্ফোরক অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 03-08-2025 ইং
  • 3522054 বার পঠিত
“অপরাধের নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ হাসিনা”—আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বিস্ফোরক অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বিস্ফোরক অভিযোগ

অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন শেখ হাসিনা”—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের বিস্ফোরক অভিযোগ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ৩ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, প্রসিকিউশন রিপোর্ট, Jugantor, BBC Archive

জুলাই অভ্যুত্থান: ইতিহাসের কাঠগড়ায় শেখ হাসিনা

২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি যুগান্তকারী মামলা চলছে। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

রোববার (৩ আগস্ট) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলার সূচনালগ্নে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন:

“জুলাই অভ্যুত্থানকালে হত্যা, নির্যাতনসহ যত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু বা নিউক্লিয়াস ছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি নিজেই ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

বিচারিক প্রক্রিয়ার সময়রেখা

তারিখকার্যক্রম
১৬ আগস্ট ২০২৪তদন্ত শুরু
১২ মে ২০২৫তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
১ জুন ২০২৫অপরাধ আমলে গ্রহণ
১০ জুলাই ২০২৫আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন
৩ আগস্ট ২০২৫সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শুরু
প্রথমে বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, যিনি শেখ হাসিনাকে “বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাবাদী স্বৈরাচার” আখ্যা দিয়েছিলেন। তার পরেই বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ: কী বলা হয়েছে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে

চিফ প্রসিকিউটর অভিযোগ করেন:

  • সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে পুলিশ ও দলীয় বাহিনীকে হত্যাযজ্ঞে ব্যবহারের নির্দেশ আসে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে

  • নিরীহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে হত্যা ও গুম করা হয়

  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে "বিশেষ টাস্কফোর্স" গঠন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানো হয়

  • অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জানতেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে তারা নিরাপদ, আর তাই তারা অপরাধ করতে উৎসাহিত হন

পলাতক আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা: ইতিহাসে দ্বিতীয়বার?

এটাই প্রথম নয় যে শেখ হাসিনা বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন বিদেশে অবস্থান করছেন।

সালঅবস্থানপ্রেক্ষাপট
২০০৭যুক্তরাষ্ট্রেসেনা–সমর্থিত সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগ
২০২৫ভারতেছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বিচার প্রক্রিয়া
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের "ওয়ান-ইলেভেন" পরবর্তী সরকার তাকে দেশে ফেরার অনুমতি না দিলে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয়েছিল।

আলোচনায় ফিরে আসছে ১৯৭৫ সালের বাকশাল ও ২০০১–২০০৬ সালের ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’

বিশ্লেষকরা বলছেন, যেভাবে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে — তা বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধিকবার ঘটেছে:

  • ১৯৭৫: শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর সংবাদপত্র বন্ধ, বিরোধীদের দমন

  • ২০০১–২০০৬: বিএনপি–জামায়াত সরকারের সময়ে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ এ বিচারবহির্ভূত হত্যা

  • ২০১৪–২০২3: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে বিরোধীদের নিপীড়ন

চিফ প্রসিকিউটর বলছেন, ২০২৫ সালের জুলাই অভ্যুত্থান ছিল এই দীর্ঘ নির্যাতনের ফল

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা না কি কূটনৈতিক জট?

জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ একাধিক মানবাধিকার সংগঠন এ মামলার দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। যদিও এখনো কোনো স্পষ্ট বিবৃতি আসেনি, তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন।

বিশ্লেষণ: আইন, রাজনীতি ও ইতিহাস কোন দিকে যাচ্ছে?

প্রশ্নবিশ্লেষণ
শেখ হাসিনা কি আদালতে আসবেন?সম্ভাবনা ক্ষীণ; ভারত তাকে রাজনৈতিক আশ্রয়দাতা হিসেবে দেখছে
এই বিচার কি রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক?সরকারপক্ষ বলছে “ন্যায়বিচার”, বিরোধী পক্ষ বলছে “দমনমূলক রাজনৈতিক নাটক”
এই বিচার কি ১৯৭১-এর যুদ্ধাপরাধ বিচারের ধারাবাহিকতা?না, এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রসঙ্গ ও নতুন কাঠামোর বিচার
উপসংহার: রাষ্ট্রনায়ক না আসামি—ইতিহাস কী বলবে?

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী, যার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ, মেট্রোরেল, পদ্মাসেতু, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাকস্বাধীনতা হরণ, দলীয়করণ, প্রশাসনিক দমননীতি— এসব অভিযোগও এসেছে।

২০২৫ সালে তাকে ঘিরে শুরু হওয়া এই বিচার রাষ্ট্রনায়ক থেকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় পরিণত হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত, যা একদিকে যেমন আইন প্রতিষ্ঠার নমুনা হতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন বিভাজনের জন্ম দেবে।

সূত্র:

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency