| বঙ্গাব্দ

শেরপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৩ জনকে কুপিয়ে আহত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 26-02-2025 ইং
  • 3840238 বার পঠিত
শেরপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি নেতাসহ ৩ জনকে কুপিয়ে আহত
ছবির ক্যাপশন: বিএনপি নেতাসহ ৩ জনকে কুপিয়ে আহত

শেরপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বিএনপি নেতাসহ ৩ জন গুরুতর আহত

শেরপুরের সদর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় কোন্দলের জেরে বিএনপি নেতাসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের পরিচয় ও অবস্থা

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক এজিএস জাকারিয়া বাদল (৪৭), সোহাগ আলম (৩৫) ও রুহুল (৩২)। তাদের মধ্যে বাদল ও সোহাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

দলীয় কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষ

স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান ও জাকারিয়া বাদলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং, স্থানীয় এই দুই নেতার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তোলে।

অন্যদিকে, হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কৃষক লীগ নেতা নূরে আলমের সঙ্গেও লুৎফরের রাজনৈতিক বৈরিতা অনেক আগে থেকেই ছিল। অভিযোগ উঠেছে, বাদলকে দমাতে সম্প্রতি কারাগারে থাকা নূরে আলমের সঙ্গে দেখা করেন লুৎফর। এরপর তারা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বাদলকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পিত হামলার শিকার বিএনপি নেতা

মঙ্গলবার বিকেলে জাকারিয়া বাদলসহ তিনজন মোটরসাইকেলে ভীমগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক সে সময়, আগে থেকে ওঁৎপেতে থাকা নূরে আলম ও লুৎফরের অনুসারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা বাদলসহ তিনজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে শেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাদল ও সোহাগকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এলাকায় চরম উত্তেজনা, পুলিশের অভিযান

এই ঘটনার পরপরই ভীমগঞ্জ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম জানান, "এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।"

এ ঘটনার জেরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, এই হামলার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

এ ঘটনায় আহতদের পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে হামলার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, বিএনপির স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency