| বঙ্গাব্দ

জুলাই অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক চেতনা রক্ষার আহ্বান ফারুকীর

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 02-08-2025 ইং
  • 3511982 বার পঠিত
জুলাই অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক চেতনা রক্ষার আহ্বান ফারুকীর
ছবির ক্যাপশন: ফারুকী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়তে হবে: মোস্তফা সরয়ার ফারুকী

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন প্রতিবেদন, বাংলা একাডেমি মিলনায়তন, ঢাকা

ঢাকা:
বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট চলচ্চিত্রকার মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা একমাত্র তখনই টিকে থাকবে, যখন অভ্যুত্থানের সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ থাকবে এবং কোনো বিদ্বেষ বা বৈষম্য প্রশ্রয় পাবে না। কারণ এসব থেকেই ফ্যাসিবাদ পুনরুত্থান ঘটাতে পারে।”

আজ শনিবার (২ আগস্ট) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে আয়োজিত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : বিক্ষুব্ধ কবি-লেখক সমাজের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘কালচারাল ন্যারেটিভ’ নির্মাণের আহ্বান

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন,

“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ঘিরে একটি কালচারাল ন্যারেটিভ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এই অভ্যুত্থান যেন শুধু রাজনৈতিক ঘটনাপঞ্জিতে না রয়ে যায়, বরং বাংলাদেশের মনন, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়। এর মাধ্যমে গণমানুষের আত্মপরিচয় এবং ইতিহাস চেতনা আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি আরও বলেন, গণ-আন্দোলনের পেছনে থাকা আবেগ, মূল্যবোধ এবং মানবিক তাগিদকে ধরার জন্য সাহিত্যের, সংগীতের, নাটকের এবং চলচ্চিত্রের দরজা খুলে দিতে হবে।

 আলোচনায় অন্য বক্তারাও বললেন

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—

  • গীতিকার শহীদুল্লাহ ফরায়েজী: “জুলাই বিপ্লব ছিল হৃদয়ের বিপ্লব, এটি কবিতার মতো ধ্বনি তুলে জেগে উঠেছিল।”

  • কবি রায়হান জহির: “এটি ছিল রাজপথে কবিতার পদচারণা। আমরা যা বিশ্বাস করি, তা-ই ছিল এই অভ্যুত্থানের বুনিয়াদ।”

  • শহীদ আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি: “আমার সন্তান শুধু রক্ত দেয়নি, এক বিপ্লবের সুর বেঁধে দিয়েছে। সেটাকে অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্ব এখন আপনাদের সবার।”

কবি-লেখকদের সম্মাননা প্রদান

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কবিতা, গান, উপন্যাস ও গণসাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে অবদান রাখা কবি-লেখকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ তালিকায় ছিলেন নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে ১২ জন সাহিত্যিক।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৫০–২০২৫

  • ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন প্রথম সাংস্কৃতিক জাতিসত্তার ভিত্তি গড়ে দেয়।

  • ১৯৬৯ গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ১৯৯০ স্বৈরাচার পতন আন্দোলন—সবকটিতেই সাহিত্য ও সংস্কৃতি ছিল চালিকাশক্তি।

  • ২০২৪–২৫ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান তারই সর্বশেষ সংযোজন, যেখানে কবিতা, গান ও পোস্টার ভূমিকা রাখে রাজনৈতিক জাগরণে।

গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

১. সরকার বা রাজনৈতিক দল নয়, সংস্কৃতি হবে আন্দোলনের উত্তরাধিকার রক্ষার বাহন।
২. সাংস্কৃতিক যুদ্ধ ছাড়া রাজনৈতিক বিজয় স্থায়ী হয় না—এমন বার্তাই দিয়েছেন বক্তারা।
3. ইতিহাস রচনার উপাদান যেন শুধু প্রেস রিলিজে না থাকে, তা ভাষার ছন্দে ও ছবির ক্যানভাসে ফুটে ওঠে—এমনটা চেয়েছেন সবাই।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency