| বঙ্গাব্দ

এনবিআরের ইতিহাসে বড় রদবদল: আন্দোলন, বরখাস্ত ও দুদক তদন্ত

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 01-08-2025 ইং
  • 3536798 বার পঠিত
এনবিআরের ইতিহাসে বড় রদবদল: আন্দোলন, বরখাস্ত ও দুদক তদন্ত
ছবির ক্যাপশন: এনবিআরের ইতিহাসে বড় রদবদল

এনবিআরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রদবদল: আন্দোলন, বরখাস্ত ও রাজনৈতিক অভিঘাত

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫
সূত্র: যুগান্তর, প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দুদক রিপোর্ট, ফিন্যান্স মন্ত্রণালয় বিবৃতি

একদিনে বদলি ৪৯ কর্মকর্তা: এনবিআরে চরম টানাপোড়েন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) গত ৩১ জুলাই একদিনে বদলি করা হয় ৪৯ জন কর্মকর্তাকে। এদের মধ্যে ২৫ জন অতিরিক্ত কমিশনার ও ২৪ জন যুগ্ম কমিশনার। এই সিদ্ধান্তের পেছনে যে নিছক প্রশাসনিক রুটিন নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ইঙ্গিত রয়েছে, তা এখন প্রায় নিশ্চিত।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি গত এক দশকে এনবিআরের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন, যা প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের সংস্কার আন্দোলন ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিক্রিয়ার প্রকাশমাত্র।

আন্দোলনের পেছনে যা ছিল

২০২৫ সালের শুরু থেকেই এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে একদল কর্মকর্তা সংগঠিত হয়ে নানা দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে ছিল—

  • এনবিআর বিলুপ্তির পরিকল্পনা বাতিল

  • চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগের নিয়মে স্বচ্ছতা

  • অডিট ও তদন্ত বিভাগে নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ

  • বাজেট বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ের মতামতের গুরুত্ব

আন্দোলনকারীদের অনেকেই বদলি হওয়া তালিকায় ছিলেন। কেউ কেউ হয়েছেন সাময়িক বরখাস্ত। সূত্র অনুযায়ী, এদের মধ্যে অন্তত ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। আর এটি এনবিআরের ভিতরে ‘ভীতিকর বার্তা’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।

পূর্বের প্রেক্ষাপট: ১৯৫০–২০২৫ সাল

এনবিআরের কেন্দ্রীয়করণ, স্বায়ত্তশাসন, এবং বাজেট আহরণে কর্মকর্তাদের দক্ষতা নিয়ে বিতর্ক বহু পুরোনো।

  • ১৯৫০-৭২: পাকিস্তান আমলে কর আহরণ ছিল প্রাদেশিক; স্বাধীনতার পর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

  • ১৯৮০-৯০: বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের চাপ ছিল এনবিআরের আধুনিকায়নের ওপর।

  • ২০০৮-১৪: ডিজিটাল এনবিআর প্রকল্পে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।

  • ২০১৭: এনবিআর চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় সংসদে।

  • ২০২৩-২৪: কর আদায়ের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় এনবিআরের দক্ষতা নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও পলিসি ইমপ্যাক্ট

একাধিক জাতীয় সংসদ সদস্য এনবিআর বিলুপ্তির বিরোধিতা করে বলেন, “রাজস্ব বোর্ড ধ্বংস করে কর সংস্কার সম্ভব নয়, বরং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমানো উচিত।”
সরকারি দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আন্দোলনের আড়ালে কিছু কর্মকর্তা সরকারকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিলেন।”

অন্যদিকে, বিরোধী দল এনবিআরের বদলিকে ‘গণআতঙ্ক ছড়ানো’ হিসেবে বর্ণনা করে সংসদে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়। বিএনপি সাংসদ গোলাম কিবরিয়া বলেন, “এটি ট্যাক্স প্রশাসনের উপর সর্বোচ্চ রাজনৈতিক চাপ।”

জনমত ও কর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ

বর্তমানে এনবিআরের কর্মকর্তাদের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা ও ভীতির পরিবেশ বিরাজ করছে। একাধিক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কোনো আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত না হয়েও বদলির শিকার হয়েছি।”

বিশ্লেষকরা মনে করেন, যদি সরকার এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে ‘ইনস্টিটিউশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বিশ্লেষণ

  • এ ঘটনাটি শুধুই প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং একটি প্রতিষ্ঠানিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ।

  • এই টালমাটাল পরিস্থিতি রাজস্ব আহরণে প্রভাব ফেলতে পারে, যার প্রভাব বাজেট বাস্তবায়নেও পড়বে।

  • এনবিআরের মতো সংস্থা যদি রাজনৈতিক চাপের মুখে ধসে পড়ে, তাহলে সরকারের কর সংস্কারের স্বপ্নও থমকে যাবে।

সূত্র:

  • যুগান্তর: এনবিআর সংস্কার আন্দোলনের খবর (2025-07-31)

  • প্রথম আলো: এনবিআর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান রিপোর্ট

  • বাংলাদেশ প্রতিদিন: এনবিআর চেয়ারম্যান পরিবর্তন নিয়ে বিশ্লেষণ

  • অর্থ মন্ত্রণালয়: সরকারি প্রজ্ঞাপন ও প্রেস ব্রিফিং (জুলাই ২০২৫)

প্রতিবেদক:

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
(রাজনৈতিক ইতিহাস ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ,বাংলাদেশ প্রতিদিন)

আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency