প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
প্রকাশের তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
সোমবার শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল নিশান্ত উলুগেটেন্নে-কে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ২০১০ সালে একজন নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে বুধবার পর্যন্ত রিমান্ডে রাখা হয়েছে।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান,
“নৌবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার প্রধান থাকার সময় ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।”
অবসরের পর উলুগেটেন্নে ছিলেন কিউবায় শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূত। গ্রেপ্তারটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন দেশটির একাধিক যুদ্ধকালীন অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মামলা ফের আদালতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
এই তদন্তের বিস্তৃত পরিসরে নাম এসেছে আরেক সাবেক নৌপ্রধান ওয়াসন্থা করন্নাগোদা-র। তিনি শ্রীলঙ্কার ৩৭ বছরের গৃহযুদ্ধের শেষ সময়ে তামিল নাগরিকদের নিখোঁজ ও হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত।
২০০৮–২০০৯ সালের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জন পুরুষ নিখোঁজ হন, যাদের অপহরণ ও হত্যার জন্য দায়ী করা হয় করন্নাগোদা নেতৃত্বাধীন নৌবাহিনীর একটি গোপন ইউনিটকে।
২০১৯ সালের আদালত নথিপত্র অনুযায়ী, নিখোঁজদের মরদেহ কখনও উদ্ধার হয়নি, কিন্তু তদন্তকারীদের ধারণা—এই সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি হতে পারে।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল বহুবার শ্রীলঙ্কার এই বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাজ্য করন্নাগোদাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
তদন্তে উঠে এসেছে, অপহৃত ব্যক্তিরা তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী ছিলেন না, বরং ধনী পরিবারের সদস্য হওয়ায় মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণ করা হয়।
২০২১ সালের অক্টোবরে শ্রীলঙ্কা সরকার ওয়াসন্থা করন্নাগোদার বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নেয়, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো হতাশ হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সেনাবাহিনীর প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণেই বিচারপ্রক্রিয়াগুলো বারবার মুখ থুবড়ে পড়ে।
শ্রীলঙ্কার তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী গৃহযুদ্ধ শেষ হয় ২০০৯ সালে। জাতিসংঘের এক প্যানেল জানায়, চূড়ান্ত অভিযানে ৪০ হাজার পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে বহুজন বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও বন্দিদশায় মৃত্যুর শিকার হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি।
অ্যাডমিরাল উলুগেটেন্নের গ্রেপ্তার যুদ্ধপরবর্তী শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বিচারপ্রক্রিয়ার গতি প্রশ্নবিদ্ধ, তবুও এই ধরণের উচ্চপর্যায়ের গ্রেপ্তার আশা জাগায়—একদিন হয়তো সব গুম, হত্যা ও নিখোঁজের উত্তর পাওয়া যাবে। যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে মানবাধিকারের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচারের পতাকা ওড়ানো প্রয়োজন।
এএফপি, শ্রীলঙ্কা ডেস্ক, ২৮ জুলাই ২০২৫
জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিল রিপোর্ট, ২০১৫–২০২৪
প্রতিবেদক: BDS Bulbul Ahmed
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |